আসিফ শিবগাত ভূঁইয়া তাঁর চারটি সেশন শুরু করেছিলেন একটি সতর্কবার্তা দিয়ে, প্রতিশ্রুতি দিয়ে নয়। তিনি যা বলতে যাচ্ছেন, সেটা এই বিষয়ে যতখানি আলোচনা সম্ভব তার একটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত gist — ইসলামী knowledge system-এর logic, এটার ইতিহাস নয়। কোনো historical record তিনি দেবেন না; সে কাজের জন্য সামনে সময় পড়ে আছে। চার দিনে অনেক কথা বলা হবে, কিন্তু সেই অনেক কথা আসলে এই topic-এ প্রকৃত যে research হওয়া উচিত তার একটি চাপা-সংকুচিত রূপ।
যেহেতু জিনিসটা এতখানি squeezed, শ্রোতাকে খেয়াল করে শুনতে হবে — এই দাবিটুকু তিনি আগেই তুলে রাখেন। মস্তিষ্ক অনেক সময় dormant অবস্থায় থাকে; সেই অবস্থায় এলে চলবে না। নিজের best intellectual self নিয়ে আসতে হবে।
কোর্সটির নকশা তিনি করেছেন অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের একটি vision হিসেবে। প্রথম দুটি আলোচনায় প্রশ্ন একটাই: অতীতে আমাদের scholar-রা ইসলামের knowledge system-কে কীভাবে develop করেছেন। আবারও — সেটার logic, পুরো historical narrative নয়। চৌদ্দশো কি পনেরোশো বছরে যা ঘটেছে, তার একটা gist ধরার চেষ্টা।
তৃতীয় আলোচনা বর্তমানের। বর্তমান বলতে ঠিক এই মুহূর্ত নয় — মূলত Western Enlightenment-এর পরে এবং colonialism-এর পরে মুসলিম দেশগুলোর শিক্ষাব্যবস্থায় যে methodology আমরা দেখি, সেই aspect থেকে ইসলামী knowledge-কে আমরা কীভাবে বুঝি, এবং crisis-টা ঠিক কোথায়। আজকের অবস্থায় আমরা কীভাবে এলাম, সেটা বুঝতে কিছু নিকট-অতীতের কথাও সেখানে আসবে। শেষ আলোচনাটি ভবিষ্যতের — এই সবকিছুর পর আমাদের করণীয় কী।
বন, গাছ নয়
একটি সতর্কতা তিনি বারবার ফিরিয়ে আনেন: don't lose the forest for the trees। এটা এমন কোর্স নয় যেখানে individual detail-এ হারিয়ে গেলে চলবে। যেকোনো presentation-এ যখন এমন কোনো তথ্য আসে যা শ্রোতা আগে জানতেন না এবং যা শুনে তিনি চমৎকৃত হচ্ছেন, তখন সেখানেই আটকে যাওয়ার একটা টান তৈরি হয়। এই particular আলোচনায় সেটা করলে চলবে না, কারণ এটি the logic course — প্রত্যেকটি গাছ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে overall forest-এর scenario হারিয়ে ফেলা এখানে সবচেয়ে বড় ক্ষতি।
এর একটি উপায় তিনি দেন: মুখস্থ রাখার চেষ্টা করবেন না। এটি মনে রাখার কোর্স নয়। overall আলোচনার যে রেশ, সেটাকে অনুধাবন করতে পারাই যথেষ্ট।
কেন বাংলার ভেতরে এত ইংরেজি
তাঁর slide বাংলায় লেখা, অথচ তাতে English word-এর ছড়াছড়ি — এবং এটা অবহেলা নয়, সিদ্ধান্ত। ভাষান্তরে শব্দের connotation-এ পার্থক্য চলে আসে, আর সে ব্যাপারে তিনি খুব sensitive। যেখানে English word-এর বদলে অন্য কিছু ব্যবহার করলে অর্থের বা দ্যোতনার মধ্যে সামান্যতম পার্থক্য চলে আসার সন্দেহ হয়, সেখানে তিনি আর বাংলা শব্দ ব্যবহার করেন না। কেউ বিরক্ত হলে, তাঁর ভাষায়, তিনি নিরুপায়।
এই বইটিও সেই নীতি ধরে রেখেছে। যেসব জায়গায় তিনি English রেখেছেন, সেখানে English-ই রাখা হয়েছে। অনুবাদ করলে যা হারাত, সেটাই তাঁর আলোচনার বিষয়।
essay writing problem
একই সতর্কতা তিনি নিজের দিকেও ফেরান। বাংলাদেশে — এবং কেবল বাংলাদেশে নয় — একটি প্রবণতা তিনি বহুদিন ধরে লক্ষ করে আসছেন, যাকে তিনি বলেন the essay writing problem। যখনই আমরা একটি argument build করতে চাই, intellectually বা logically সেই argument কতখানি strong দাঁড়াচ্ছে তার চেয়ে বেশি মনোযোগ যায় রচনাশৈলী দিয়ে সেটাকে মানুষের কাছে embellish করার দিকে। মানুষটি অসৎভাবে এটা করছেন না; অভ্যাসের কারণে করে ফেলছেন।
সে কারণেই, তিনি বলেন, তিনি just কিছু good sounding word ব্যবহার করেন না। যখন তিনি logic বলেন, হয় তিনি সেটা explain করবেন, নয়তো তাঁর overall কাজের মধ্যে তার ছাপ পাওয়া যাবে। প্রত্যেক sentence-এর প্রত্যেক word নিয়ে চিন্তা করা যায় না, কিছু loose word থেকেই যাবে — কিন্তু the important words are there for important reasons।
ধৈর্য এবং লেগে থাকা
শেষ শর্তটি সবচেয়ে সহজ শোনায় এবং সবচেয়ে কঠিন: ধৈর্য এবং লেগে থাকা। তিনি কাউকে ছোট করছেন না, কিন্তু এটা given যে সবার intellectual অবস্থান এক জায়গায় নয়। তাঁর দাবি, careful থাকলে প্রত্যেকের পক্ষেই কমবেশি বোঝা সম্ভব। কোনো জিনিস বুঝতে কষ্ট হলে আপাতত skip করাই ভালো; overall রেশটা ধরতে পারাই এই সময়ের জন্য যথেষ্ট।
চারটি সেশন সম্পর্কে তাঁর নিজের মূল্যায়নটি সংযত নয়। তিনি বলেন, এটি অনেকটা তাঁর জীবনের কাজের একটি snapshot পেয়ে যাওয়ার মতো — এখানে যে logic পাওয়া যাবে, সেটার বিস্তারিত নিয়ে কাজ করাই more or less তাঁর জীবনের কাজ।
নিচের চারটি অধ্যায় সেই চারটি সেশনের ক্রম অনুসরণ করে। যেখানে আসিফ কোনো প্রশ্নের মীমাংসা করতে অস্বীকার করেছেন, সেখানে এই বইও করেনি।
এক · কে এই জিনিয়াস ট্রান্সলেটর
আসিফ তাঁর আলোচনা শুরু করেন একটি ছবি দিয়ে। পর্দায় একজন তরুণ বাংলাদেশি — মাথায় হাত, সোফায় বসা, উদ্বিগ্ন। তিনি শ্রোতাদের একটি নাম বেছে নিতে বলেন, এবং নামটি দাঁড়ায় সায়্যেম।
সায়্যেম কাল্পনিক, কিন্তু পরিচিত। ভালো স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া একজন মানুষ, ভালো grade নিয়ে সদ্য চাকরিতে ঢুকেছেন বা ঢুকতে যাচ্ছেন। তিনি ধর্মের ব্যাপারে আগ্রহী — skeptic নন, বরং kind of religious। সমস্যা অন্যত্র। সোশ্যাল মিডিয়ায় এবং তার বাইরে ইসলামের fundamental বিষয়গুলো নিয়ে যে অজস্র debate চলে, তাতে তিনি ক্লান্ত এবং কিছুটা উদ্বিগ্ন। কত রকম মানুষ সব জায়গা থেকে কুরআন-হাদিস quote করছেন। অমুক আলেম, তমুক institution, এই প্রোগ্রাম, ওই মাহফিল, এই বিশ্ববিদ্যালয়। সামনে রমজান আসছে, এবং তার সঙ্গে আসছে চেনা বিতর্কগুলো।
সায়্যেম জানতে চান, সবচেয়ে প্রথমে তিনি কী করতে পারেন।
উত্তরটি এতই স্বাভাবিক যে আসিফ নিজেই স্বীকার করেন, তিনি আশা করছিলেন কেউ এটাই বলবেন: কুরআনে যাওয়া উচিত। কিন্তু সায়্যেম আরবি জানেন না। তাহলে? তাহলে অনুবাদ।
কেউ বলতে পারেন, আরবি শিখে নিন। কিন্তু আসিফ মনে করিয়ে দেন, সায়্যেম এই কোর্সের শ্রোতা নন — তিনি বাংলাদেশের একজন সাধারণ পড়াশোনা-করা মানুষ, যাঁর হাতে সময় নেই। স্বাভাবিকভাবেই তিনি অনুবাদে যাবেন, এবং আমরা ধরে নেব যে অনুবাদ থেকে ইসলামের অনেক fundamental knowledge তাঁর পাওয়ার কথা।
আসিফের পুরো প্রথম সেশনটি এই ধারণাটিকে পরীক্ষা করার জন্য।
একটি শব্দ
পরীক্ষাটি তিনি চালান একটি মাত্র আয়াতের একটি মাত্র অংশ দিয়ে — সূরা বাকারার ২২৮ নম্বর আয়াত। আয়াতটি বড়, তিনি তার ছোট একটি অংশ নেন:
অর্থ মোটামুটি পরিষ্কার: তালাকপ্রাপ্তা নারীরা অপেক্ষা করবেন তিনটি قُرُوء পর্যন্ত। এটাই তাঁদের ইদ্দত, তাঁদের waiting period। এ পর্যন্ত কোনো সমস্যা নেই।
সমস্যা ثَلَاثَةَ قُرُوءٍ-এ। আসিফ কয়েকটি অনুবাদ পাশাপাশি রাখেন, শুধু এই দুটি শব্দের:
three monthly cycles — The Noble Quran
three monthly courses — Muhammad Asad
three monthly courses — Marmaduke Pickthall
three monthly periods — Abdullah Yusuf Ali
three periods — Saheeh International
তিন হায়েজ — একটি বাংলা অনুবাদ
এবার প্রশ্ন: একজন তালাকপ্রাপ্তা নারী এই আয়াত পড়ে কী বুঝবেন? কিসের cycle? monthly cycle বলতে ঠিক কী?
আলোচনায় একটি উত্তর আসে — menstruation-এর পর তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে। আসিফ উত্তরটিকে ভুল বলেন, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে যোগ করেন যে দোষটি উত্তরদাতার নয়। অনুবাদ থেকে এটাই পাওয়া যাচ্ছে। এরকম অর্থ করা অস্বাভাবিক কিছু নয়। three monthly cycles, three monthly courses, three monthly periods — এই শব্দগুলো এই দিকেই ঠেলে দেয়।
আর লক্ষণীয় হলো: বাংলা অনুবাদে যে শব্দটি আছে, ‘হায়েজ’ — সেটির মানে না জানা থাকলে কুরআন পড়েও পাঠক বুঝতে পারবেন না হায়েজ কী।
একটি শব্দের দুটি বিপরীত অর্থ
قُرُوء একটি বহুবচন; এর একবচন قُرْءٌ। আরবিতে এই শব্দের দুটি অর্থ আছে — এবং এখানেই আলোচনাটি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। দুটি অর্থ পরস্পরের বিপরীত।
একটি অর্থ حَيْض — হায়েজ, অর্থাৎ যখন নারীর period চলছে। অন্যটি طُهْر — তুহর, অর্থাৎ যখন menstruation চলছে না। আসিফ এখানে একটি বন্ধনী খোলেন: হায়েজের অবস্থাকে technically impure state বলা হয় এই অর্থে যে ওই সময় নামাজ পড়া যায় না — ঠিক যেভাবে ওয়াশরুম থেকে আসার পর অজু ছাড়া নামাজ হয় না। এর কোনো negative connotation নেই, মানুষটি impure নন। এটি সম্পূর্ণ technical ব্যাখ্যা, এবং একে human rights-এর আলোচনায় টেনে নেওয়ার কিছু নেই।
কিন্তু নারী তো একসঙ্গে দুই অবস্থায় থাকতে পারেন না। আল্লাহও একই সঙ্গে দুটি mean করতে পারেন না। শব্দটির কোনো একটি অর্থ হওয়া উচিত।
এই বিন্দুতে আসিফ দুজন ব্যক্তির নাম আনেন, যাঁদের নাম শ্রোতারা কমবেশি জানেন — সুন্নি ইসলামের চারটি প্রধান মাযহাবের দুটির founding figure। ইমাম শাফেয়ী এবং ইমাম আবু হানিফা। এবং সঙ্গে সঙ্গে তিনি একটি শর্ত জুড়ে দেন: কোনো রকম অতি-পজিটিভ বা অতি-নেগেটিভ ধারণা নিয়ে এখানে আসা যাবে না। মাযহাবের পক্ষে, মাযহাবের বিপক্ষে, লা-মাযহাব — এই ধরনের অবস্থান থেকে এই মুহূর্তে সরে আসতে হবে। শুধু pure knowledge-এ concentrate করতে হবে।
কারণ আসল প্রশ্ন এটা নয় যে কে ঠিক। আসল প্রশ্ন: তাঁরা এই ব্যাখ্যায় পৌঁছালেন কোথা থেকে?
ইমাম শাফেয়ীর পথ
উত্তরটি চমকপ্রদ। দুজনেই ব্যাখ্যা এনেছেন অন্য একটি শব্দের আলোকে — ثَلَاثَة, অর্থাৎ ‘তিন’। কিন্তু বাংলা তিন নয়, আরবি ثَلَاثَة। আসিফ এখানে থামেন: ‘সালাসাতুন’ শব্দ থেকে তাঁরা যে meaning derive করছেন, বাংলা ‘তিন’ থেকে সেই অর্থ derive করা যাবে না। আরবি ثَلَاثَة যে connotation দিচ্ছে, বাংলা ‘তিন’ সেটি দেয় না। তাঁর ভাষায়, this should be the first striking point।
ইমাম শাফেয়ীর যুক্তি বুঝতে আরবি ব্যাকরণের একটি নিয়ম লাগে। আরবি numbering system-এ তিন থেকে দশ পর্যন্ত সংখ্যাগুলোর একটি peculiarity আছে: যে জিনিসটিকে সংখ্যার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত করা হচ্ছে, সেটি যদি পুংলিঙ্গ হয়, সংখ্যাটি হবে স্ত্রীলিঙ্গ; আর জিনিসটি স্ত্রীলিঙ্গ হলে সংখ্যাটি পুংলিঙ্গ। ঠিক উল্টো। এবং এটি সব সংখ্যার ক্ষেত্রে নয়, কেবল তিন থেকে দশ।
আরবিতে প্রতিটি noun হয় পুংলিঙ্গ নয় স্ত্রীলিঙ্গ; neuter gender নেই। এটি আরবির exclusive কিছু নয় — হিন্দি, উর্দু, ফরাসিতেও এই ব্যাপারটি আছে।
এখন ثَلَاثَة শব্দটি স্ত্রীলিঙ্গ। যেহেতু সংখ্যাটি স্ত্রীলিঙ্গ, ইমাম শাফেয়ী বলছেন قُرْء এমন কিছুকে signify করছে যা পুংলিঙ্গ। আর দুটি সম্ভাব্য অর্থের মধ্যে حَيْض স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ, طُهْر পুংলিঙ্গ। সুতরাং এখানে তুহর বোঝানো হচ্ছে — তিনটি pure state পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, তিন মাস নয়। তিনটি pure state হতে তিন মাস নাও লাগতে পারে।
আসিফ জোর দিয়ে বলেন, এই ব্যাপারটি তিনি derive করছেন আরবি ভাষার নিয়ম থেকে। এটি কুরআন-সুন্নাহর দলিলের প্রশ্ন নয়; এটি ব্যাখ্যার প্রশ্ন এবং আরবি ভাষার জ্ঞানের প্রশ্ন।
ইমাম আবু হানিফার গণনা
ইমাম আবু হানিফা এই linguistic inference মানেন না। তাঁর বক্তব্য, قُرْء শব্দটি নিজে পুংলিঙ্গ হতে পারে, কিন্তু তাই বলে সেটি একটি পুংলিঙ্গ জিনিসকেই signify করবে — এই ব্যাখ্যা তাঁর কাছে linguistically acceptable নয়।
তাহলে তিনি কীভাবে পৌঁছালেন? একটি উসূলী যুক্তি দিয়ে। আসিফ এখানে স্বীকার করেন যে পূর্ণ আলোচনায় গেলে আম-খাসের বহু মাসের কোর্স করতে হবে; আপাতত লক্ষ্য শুধু appreciate করা যে তিনি কী করছেন।
আবু হানিফার কাছে কুরআনের শব্দ নানা ধরনের হতে পারে। কোনো শব্দ ‘আম’ — general বা common, যেমন human: একটি category, যার ভেতরে অনেক individual পড়ে। আবার কোনো শব্দ ‘খাস’ — specific, একটিমাত্র individual-কে mean করে। তাঁর কাছে ثَلَاثَة একটি খাস শব্দ। যেকোনো নির্দিষ্ট সংখ্যাই খাস। তিন তিনই, তিন অন্য কিছু বোঝায় না।
এবং তাঁর উসূল হলো: যখন একটি শব্দ খাস হয়, it is self-explanatory। এটিকে বোঝার জন্য বাইরের কিছু লাগে না, এবং যেহেতু এটি নিজেই নিজেকে সম্পূর্ণভাবে explain করে, এর মধ্যে কিছু যোগও করা যাবে না, বিয়োগও করা যাবে না।
এই জায়গায় আসিফ একটি পার্থক্য টানেন যা পুরো আলোচনার ভার বহন করে। আমরা casual কথায় সংখ্যা দিয়ে সংখ্যা বোঝাই না — ‘ভাই, তোমাকে একশোবার ফোন দিলাম’ বললে সত্যিই একশোবার ফোন দেওয়া হয়নি। কিন্তু আল্লাহ casual কথা বলছেন না। তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ rule দিচ্ছেন, যার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে — একজন তালাকপ্রাপ্তা নারী ঠিক কতদিন অপেক্ষা করবেন। সেখানে ثَلَاثَة শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। এটি খাস। এটি self-explanatory। এতে যোগ-বিয়োগ চলে না।
এবার গণনা। সবাই একমত যে তালাক দিতে হবে pure state-এ, অর্থাৎ যখন menstruation চলছে না। ধরা যাক তালাক দেওয়া হলো এমন একটি তুহরে। সেই তুহরেই তো waiting period শুরু হচ্ছে — কিন্তু সেই তুহরকে পুরো ১ ধরা যায় না, কারণ ওই তুহরের একটি পর্যায়ে নারী তালাকপ্রাপ্তা ছিলেন না, এখন হয়েছেন। ধরা যাক গড়ে সেটি ০.৫।
এরপর একটি menstruation cycle গেল, আবার একটি pure cycle এল — হলো ১.৫। আবার একটি — হলো ২.৫। তিন হলো না।
আর যদি প্রথম আংশিক তুহরটিকে গণনায় না ধরে আরও তিনটি pure state নেওয়া হয়, তাহলে দাঁড়ায় ৩.৫ — কারণ যে তুহরে তালাক দেওয়া হয়েছে, ততটুকু তো অপেক্ষা করতেই হচ্ছে। ২.৫ অথবা ৩.৫; ঠিক ৩ কখনো নয়।
সুতরাং, আবু হানিফার যুক্তিতে, তুহর অর্থ নিলে আল্লাহর নির্দিষ্ট করে বলা সংখ্যাটি রক্ষা করা যাচ্ছে না। অতএব অর্থটি হায়েজ — তিনটি impure state। বাংলা অনুবাদে যে ‘তিন হায়েজ’ পাওয়া যায়, সেটি এখান থেকেই।
যেখানে আসিফ থামেন
এরপর আসিফ যা করেন, সেটাই আসলে অধ্যায়টির বিষয়।
তিনি মীমাংসা করতে অস্বীকার করেন। কেউ যদি জিজ্ঞেস করেন, তাহলে শেষ পর্যন্ত কোনটি — pure state না impure state — তিনি বলেন, that is not the point। ওই মীমাংসায় তিনি যাবেন না। আজ তাঁরা তালাকপ্রাপ্তা নারীর ফিকহ পড়তে বসেননি, menstruation-এর ফিকহ নিয়ে কথা বলতেও আসেননি। প্রশ্নটি অন্য: how are things interpreted?
তিনি যেটা দেখাতে চেয়েছিলেন তা হলো কুরআনের একটিমাত্র আয়াতের একটিমাত্র শব্দকে interpret করতে যাওয়ার জটিলতা।
এবং সেই জটিলতার ভেতর একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ আছে, যেটি সহজে চোখ এড়িয়ে যায়। দুই ইমামের ইখতিলাফ কুরআনের আয়াত নিয়ে নয়। তাঁরা প্রথমত মতভেদ করছেন আরবি ভাষার actual নিয়ম কী তা নিয়ে। আর সেটা, আসিফ বলেন, আপনি-আমি বের করতে পারব না; আমরা তো আরবি ভাষাই জানি না।
দ্বিতীয় যে self-realization আসা উচিত, সেটি আরও অস্বস্তিকর। আপনি আরবি জানেন কি না তা ভুলে যান — প্রশ্ন হলো, ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আপনি কখনোই এই ধরনের rigor ব্যবহার করতেন না। খুব খেয়ালচ্ছলে ‘তিনটি monthly cycle’ থেকে কিছু একটা বুঝে নিয়ে মনে করতেন এটাই ব্যাখ্যা।
আইনস্টাইন এবং নিলস বোর
এখানে আলোচনাটি আরও গভীরে যায়। আসিফ বলেন, প্রথম যে জিনিসটা বোঝা দরকার তা হলো ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আবু হানিফা আমাদের মতো ব্যক্তি নন — এবং এই কথাটা বোঝা জরুরি, কারণ অনেক মানুষ, সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে আলেম হিসেবে পরিচিত বহু মানুষ পর্যন্ত, এই ব্যাপারটা বোঝেন না।
আমাদের অবচেতনে একটি ভঙ্গি কাজ করে: গত চৌদ্দশো বছরে scholar-রা অনেক কাজ করেছেন বটে, কিন্তু তাঁরা তো অনেক কিছু জানতেন না। আমরা তো computer science থেকে rocket science কত কিছু পড়েছি; তাঁরা হয়তো পড়েননি।
আসিফ প্রশ্নটি ঘুরিয়ে দেন। কারও ব্যাপারে যখন ধারণা হলো যে তিনি খুব একটা জানেন না, তখন সঠিক পরবর্তী পদক্ষেপ কী? এই সিদ্ধান্তে আসা যে যেহেতু আমার ধারণা হয়েছে, নিশ্চয়ই তাই? নাকি এই কথাটি মনে রাখা যে আমার ধারণাও ভুল হতে পারে — maybe I should give these guys some chances? তারপর জানার চেষ্টা করা যে তাঁরা আসলে কী জানতেন, কীভাবে কাজ করতেন, কীভাবে ব্যাখ্যা করতেন।
সেই কাজটি আমরা করি না। আমরা ধরে নিই তাঁরা জানেন না, এবং চারপাশের সবাই পিঠ চাপড়ে সায় দেয় — হ্যাঁ, কুরআন তো আল্লাহ পাঠিয়েছিলেন, হাদিসও এসেছে, কিন্তু মাঝখানে অনেক মানুষ গ্যাঞ্জাম পাকিয়ে দিয়েছে; আর আমরা যেহেতু বুদ্ধিমান ও পড়াশোনা-করা মানুষ, আমরাই সেই শৃঙ্খল থেকে বেরিয়ে আসতে চাই।
এর বিপরীতে তিনি একটি তুলনা রাখেন। যেকোনো science-এ, যেকোনো subject-এ difference of opinion হয়। কিন্তু আমরা সেই difference যে কারও কাছ থেকে accept করি না। আইনস্টাইন আর নিলস বোরের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল। সেটি আমরা accept করি, এবং বুঝি যে হয়তো তাঁদের মতো জায়গায় গিয়ে একজন ঠিক, আরেকজন ভুল। তাঁরা ভুল করলেও খুব কাঁচা ভুল করবেন না — সেই পরিমাণ intellectual জায়গা তাঁরা অতিক্রম করে এসেছেন।
ভাষার ক্ষেত্রেও তাই। ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম আবু হানিফা যেখানে দাঁড়িয়ে ভিন্নমত পোষণ করছেন, সেখানে ভিন্নমতের জায়গা আছে — কিন্তু সেই জায়গাটা এতটা elastic নয় যে যে-কেউ সেখানে ঢুকে পড়তে পারবেন।
ভাষার নিজস্বতা: ইমরুল কায়েসের একটি শব্দ
আরবি ভাষার নিজস্বতা ও গভীরতার কথা আসিফ দাবি হিসেবেই রাখেন, এবং সেটা স্বীকার করেই রাখেন। তিনি বলেন, এটি তিনি এখানে প্রমাণ করতে পারবেন না; প্রমাণ করতে হলে আগে আরবি জানতে হবে, তারপর নাহু-সরফ-রেটোরিক নিয়ে যা আলোচনা হয়েছে সেসব পড়াতে হবে, then you will see for yourself। আপাতত তিনি একটি literary snapshot দেন।
জাহেলি যুগের শ্রেষ্ঠ কবিদের কবিতা সংকলিত হয়েছিল, এবং সেই সংকলন আজও সংরক্ষিত — মুআল্লাকাত। শব্দটির আভিধানিক অর্থ ‘যা ঝুলে আছে’। প্রচলিত ব্যাখ্যা, এই শ্রেষ্ঠ কবিতাগুলো কাবার দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা হতো। আসিফ এখানে সততার সঙ্গে যোগ করেন — কাতার ইউনিভার্সিটিতে মুআল্লাকাতের ওপর তিনি একটি পেপার লিখেছিলেন, এবং তিনি জানেন যে এটিই একমাত্র ব্যাখ্যা নয়, এমনকি প্রমাণিতও নয়। কেন এটিকে মুআল্লাকাত ডাকা হয়, আমরা exactly জানি না।
ইমরুল কায়েস ছিলেন তাঁদের মধ্যে শ্রেষ্ঠতমদের একজন — জাহেলি যুগের কবি, অমুসলিম। তাঁর মুআল্লাকার প্রথম চরণের প্রথম অংশ:
قِفَا نَبْكِ مِنْ ذِكْرَى حَبِيبٍ وَمَنْزِلِ
ইংরেজিতে: Let us pause and weep in the memory of our beloved and our home. চলো একটু থামি, এই ছুটে চলা বন্ধ করি, আর আমাদের প্রিয় মানুষ ও আমাদের ঘরের কথা ভেবে একটু চোখের পানি ফেলি।
সুন্দর একটি শুরু। কিন্তু interesting জিনিসটা প্রথম শব্দে — قِفَا।
আরবিতে duality আছে। قِفَا মানে ‘চলো’ — কিন্তু সবাই মিলে নয়, ঠিক দুজন। সবাইকে বললে হতো قِفُوا, একজনকে বললে قِفْ। তাহলে ইমরুল কায়েস কোন দুজনের কথা বলছেন?
স্বাভাবিক অনুমান — কবি ও পাঠক। কিন্তু analyzer-রা সেটি মানেন না, কারণ তার জন্য قِفَا বলার দরকার ছিল না; قِفْ বললেই চলত। তাছাড়া কবিতা তো একজন পাঠকের সামনে নয়, অনেকের সামনে recite-ও করা হবে। তাঁদের ব্যাখ্যা: কবি নিজের সঙ্গেই কথা বলছেন। তিনি নিজের self-কে নিজের বাইরে বের করে এনে একটি dual আলোচনা চালাতে চাইছেন।
আমরাও এটি করি। উর্দু কবিতায় পাওয়া যায় — ‘ম্যায় অউর মেরি তানহায়ি ইয়ে সোচ রহে থে’। কিন্তু খেয়াল করার বিষয়, এ ধরনের কথা বলতে উর্দুকে কয়েকটি শব্দ খরচ করতে হয়েছে। ইমরুল কায়েস just said قِفَا। শুনে সঙ্গে সঙ্গে বোঝা যায় না কোন দুজন, কিন্তু literature-এর রস আস্বাদনের জায়গায় তিনি এই সূক্ষ্মতা নিয়ে এসেছেন — ভাষার parameter ব্যবহার করেই।
এই ঘরানার একটি anecdote আসিফ যোগ করেন। ইবনে জিন্নি নামে একজন বড় আরবি grammarian ছিলেন, জন্মসূত্রে পারস্যের, আরব নন — এবং অনেক great আরবি grammarian-ই ছিলেন non-Arab। তিনি একটি বই লিখেছেন, নাম আল-খাসাইস, ‘The Specialties’। নামটি নিয়েই scholar-রা কৌতূহলী হয়েছেন: কেবল আল-খাসাইস কেন, খাসাইসু লুগাতিল আরাবিয়্যাহ নয় কেন? কারও কারও ব্যাখ্যা — তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, এগুলোই the ultimate specialties যা আরবি ভাষার আছে; অন্য কোনো ভাষা পর্যবেক্ষণ করে দেখো, এই excellence তারা beat করতে পারে কি না।
যখন আরবরা ভয় পেলেন
এই ভাষা কীভাবে টিকে থাকল, সে প্রশ্নে আসিফ ইমাম আল-গালায়ীনীর একটি বক্তব্য আনেন — জামিউদ দুরূসিল আরাবিয়্যাহ থেকে।
যখন আরবি ভাষার মানুষেরা ভয় পেলেন যে ভাষাটি হারিয়ে যেতে পারে, অনারবদের সঙ্গে মিশে যাওয়ার পর।
ইসলাম তখন বহু জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। অনারবরা আসছেন, কুরআন পড়তে যাচ্ছেন, আরবি বুঝতে যাচ্ছেন — কিন্তু আরবি ভাষার paradigm তাঁদের জানা নেই। ভয় তৈরি হলো, ভাষার specialties মানুষ হারিয়ে ফেলবে।
আসিফ এখানে একটি প্রশ্ন রাখেন: হারিয়ে গেলে সমস্যা কী? বাংলা ও ইংরেজিতে তো অনেক কিছুই হারিয়ে গেছে; আমরা তো চারশো-পাঁচশো বছর আগের বাংলা বা ইংরেজিতে কথা বলি না। উত্তরটি নির্মম — কুরআন হারিয়ে যাবে। শুধু text দিয়ে কিছুই করা যাবে না। text-কে ব্যাখ্যা করতে হলে, قُرْء-এর কী অর্থ হবে সেটা বুঝতে হলে, পুরো ভাষাটা লাগবে — অন্তত এর মূল কাঠামোটা।
তাঁরা একে লিপিবদ্ধ করলেন অভিধানে, এবং এর জন্য উসূল প্রতিষ্ঠা করলেন যা একে ভুল থেকে রক্ষা করবে। আসিফ সাবধান করে দেন, এখানে ‘অভিধান’ বলতে আজকের ডিকশনারি বোঝা যাবে না; নানা রকম বিষয়ের কাওয়ামিস, শুধু শব্দের অর্থ নয়।
বেদুইন আরবদের ইমরুল কায়েসের কবিতা বুঝতে কোনো academic জ্ঞান লাগেনি — লাগার কথাও নয়। They are the people of the language; ভাষার technicality ও সাহিত্যিক রস তাঁরা naturally বুঝতেন। কিন্তু যখন হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলো, তখন তাঁরা এর academic ভিত্তি তৈরি করা শুরু করলেন। এই ভিত্তির নাম الْعُلُوم الْعَرَبِيَّة।
আরবি ভাষার যে knowledge, সেটি হলো সেই সব knowledge যার মাধ্যমে নিজের জিভ ও কলমকে — অর্থাৎ নিজের কথা ও লেখাকে — ভুল থেকে রক্ষা করা যায়।
وَهِيَ ثَلَاثَةَ عَشَرَ عِلْمًا
এবং সেটি তেরোটি ইলম।
তেরোটি বিজ্ঞান
আসিফ এখানে একটি প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন যা সহজে ভোলা যায় না: বাংলা ভাষার knowledge-কে কয় ভাগে ভাগ করা যায়, এমন কথা কি বলা যাবে? এরকম কাজ করাই হয়নি। বাংলাও তো একটি ভাষা, analyze করলে নিশ্চয়ই বোঝা যাবে; কিন্তু কতটুকু করা হয়েছে, এই depth-এ হয়েছে কি না — সেটাই প্রশ্ন।
তেরোটি হলো:
الصَّرْف — সরফ, morphology। শব্দ কীভাবে এল, কীভাবে derived হলো।
الإِعْرَاب — ই'রাব, বাক্য নিয়ে কাজ করে; যাকে আমরা grammar বলি।
الرَّسْم — রসম, লেখার বিজ্ঞান। সুন্দর হাতের লেখা নয়, এর চেয়ে অনেক জটিল।
المَعَانِي — মা'আনী। আরবি বাক্য ও কথাগুলো কেমন, সেগুলোকে categorize করা।
البَيَان — বায়ান। একই কথা কত ভাবে বলা যায় — একভাবে বললে সাধারণ কথা, আরেকভাবে বললে কবিতা।
البَدِيع — বাদী'। কথাকে আরও কীভাবে embellish করা যায়।
العَرُوض — আরূয। আরব কবিতা কোন মিটারে প্রতিষ্ঠিত হয়।
مَتْنُ اللُّغَة — মাতনুল লুগাহ, ভাষার text-সমূহের জ্ঞান। theory প্রয়োগ করতে হয় text-এর ওপর।
মা'আনী, বায়ান ও বাদী' একত্রে আরবি ভাষার রেটোরিক, এবং এগুলো নাহু ও সরফের ওপর dependent। সরফ ও ই'রাবকে একত্রে বলা হয় নাহু — এটি আল-গালায়ীনীর নিজের বিন্যাস। তারীখুল আদবকে অন্তর্ভুক্ত করাও তাঁর নিজস্ব; বেশিরভাগ scholar বারোটি ভাগ করেন এবং সাহিত্যের ইতিহাস বাদ দেন। আসিফ গালায়ীনীর সিদ্ধান্তটিকে logically correct মনে করেন — সাহিত্যের ভালো সমঝদার হতে হলে কোন সময়ের সাহিত্য কেমন ছিল তা জানতে হবে।
এই সব বিজ্ঞানের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরফ এবং ই'রাব। আরব scholar-রা বলেন, সরফ আরবি ভাষার মা, আর ই'রাব তার বাবা।
যমজ টাওয়ার
এতগুলো সুতো একসঙ্গে বাঁধতে আসিফ একটি ছবি আঁকেন — মালয়েশিয়ার টুইন টাওয়ার। দুটি টাওয়ার, আর মাঝখানে একটি সংযোগপথ।
প্রথম টাওয়ারটি — তিনি একে কালো বলেন — আরবি ভাষা। এবং এখানেই তাঁর মূল দাবি: Arabic is not just the language যেটাতে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। It is a knowledge in itself। ওই তেরোটি বিজ্ঞান এই টাওয়ারের তলা।
দ্বিতীয় টাওয়ারটি নীল — the Islamic applied knowledge। আক্বীদা, ফিক্বহ, তাযকিয়াতুন নাফস, এবং এর সঙ্গে যা কিছু যুক্ত।
আর দুই টাওয়ারের মাঝখানের লাল সংযোগপথটি — কুরআন এবং সুন্নাহ।
ছোট বলে একে কম গুরুত্বপূর্ণ ভাবার কোনো সুযোগ নেই; ছোট হলেও এটিই সবচেয়ে important। কারণ আল্লাহ আরবি ভাষার excellence-কে ব্যবহার করছেন — সেই ভিত্তির ওপরই তিনি কুরআন ও সুন্নাহ পাঠিয়েছেন। অনুবাদ পড়ে যেটিকে clumsy মনে হতে পারে, pristine আরবদের কাছে — আবু জাহল, আবু লাহাব, উমর, আবু বকর, সবার কাছেই — কালো টাওয়ারের ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে সেই সংযোগপথটি ছিল একটি miracle।
এবং এখান থেকেই আধুনিক পাঠকের সমস্যাটি দৃশ্যমান হয়। তিনি মনে করছেন নীল টাওয়ারটুকু জানলেই চলবে — সংযোগপথ আর নীল টাওয়ার তিনি বুঝে ফেলতে পারবেন। কারণ তিনি তো বই পড়তে পারেন, তিনি তো অনেক heavy subject পড়েছেন; ইসলাম তো আর এত heavy না।
আসিফ বলেন, ‘না, আমি এভাবে চিন্তা করিনি’ — এই উত্তরটি যথেষ্ট নয়। আমরা collectively এভাবেই চিন্তা করে এসেছি, এবং এটা আমাদের দোষ নয়। This is the paradigmatic problem। secular education-এর paradigm থেকে আসলে এভাবে চিন্তা করতে আমরা বাধ্য।
এর সবচেয়ে পরিষ্কার লক্ষণটি একটি বাক্যে ধরা পড়ে, যা আমরা প্রায়ই বলি: ‘আমি কুরআনটা ভালো করে বোঝার জন্য আরবি শিখতে চাই।’ কথাটি বলার সময় টাওয়ারের কথা মাথায়ই আসে না। মনে হয়, আরবি শেখা মানে ওই সংযোগপথটুকু বোঝার জন্য — যেভাবে মানুষ Alliance Française-এ গিয়ে একটু ফরাসি শেখে, সেভাবে একটু আরবি।
যাঁরা দেখিয়েছেন
এতটুকু বোঝার পর, আসিফ বলেন, এবার কুরআনের ই'জায বা miraculous nature-এর ধারণাটিকে entertain করা সম্ভব। যে সমাজের base entertainment, base culture, কার্যত সবকিছুই কবিতাকেন্দ্রিক, সেখানে এসে কুরআন দাবি করছে: এর মতো কিছু এনে দেখাও।
তিনি একটি তুলনা দেন। রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্রের সময়ে কেউ যদি এসে বলতেন, ‘আমি ঈশ্বরের প্রেরিত, এবং আমি এমন কবিতা শোনাব যা তোমাদের কেউ পারবে না’ — how ridiculous that would be। কেউ মিথ্যা দাবিদার হলে সে এই লাইনেই দাবি করত না; অন্য কোথাও নিজেকে prove করার চেষ্টা করত।
এবং মুসলিম scholar-রা বিষয়টি দাবির পর্যায়ে ফেলে রাখেননি। ইমাম আব্দুল কাহের আল-জুরজানী প্রথম সাহিত্যিক ঢঙে — গোছানো academic কাঠামোয় নয় — দেখানোর চেষ্টা করেছেন কেন linguistically এরকম কিছু মানুষ produce করতে পারে না। ইমাম আস-সাক্কাকী প্রথম একে academic format দিয়েছেন; মা'আনী, বায়ান, বাদী'-এর কাঠামো তাঁর হাতেই। আসিফ যোগ করেন, এই কাজ কেবল unprecedented নয় — এর ওপর ভিত্তি করেই পশ্চিমে arts department-এর ধারণাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
রাসূলের ভাষা
এরপর একটি কথা তিনি বলেন যা, তাঁর নিজের ভাষায়, shock হিসেবে আসতে পারে। ইমাম শাফেয়ীর মতে — এবং মোটামুটি সব scholar যাতে একমত — আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছিলেন আরবি ভাষার ইতিহাসে একমাত্র ব্যক্তি যাঁর ভাষার ওপর complete command ছিল।
এই কথাটিকে দুইভাবে বোঝা যায়। একটি হলো the proof — আরবি ভাষার বিজ্ঞান পড়ে এসে তারপর তাঁর কথায় ফিরলে সেটির ফিল পাওয়া যায়। অন্যটি metaphysical, এবং সেটিই আসিফের কাছে বেশি জরুরি।
রাসূল মানে যিনি বার্তা পৌঁছান। আল্লাহ যখন কথা বলছেন, He is talking from His complete knowledge — আল্লাহর সম্পূর্ণ জ্ঞানের যে meaning, সেটি expressed হচ্ছে এমন একটি ভাষায় যা আমরা সবাই জানি। আরবদের জানা ভাষাতেই আল্লাহ এমন knowledge push করছেন যা মানুষের জানার অনেক ওপরে। মিনিং অত্যন্ত profound, অথচ ভাষা সবসময়ই finite।
সেই finite ভাষায় যখন এত profound meaning বহন করতে হচ্ছে, যিনি বহন করবেন তিনি কি সাধারণ কেউ হলে চলবে? যাঁর অবস্থা এমন যে ‘আমি বুঝছি, কিন্তু জানি না কেমন করে বলব’, বা বলতে গিয়ে তোতলাচ্ছেন, বা দুর্বল শব্দ ব্যবহার করছেন? মানুষই তো সন্দেহ করবে।
সুতরাং সর্বোচ্চ eloquence থাকতে হবে — এবং আল্লাহর রাসূলের ভাষায় সেই পরিচয় আছে। মক্কার আরবরা, যাঁরা ভাষার nitty-gritty জানতেন, তাঁদের সামনে ছিল একটি double challenge: প্রথমত কুরআন, তারপর রাসূলের পুরো personality, যার মধ্যে তাঁর ভাষাও পড়ে।
জ্ঞান কাকে বলে
এতদূর আসার পর আসিফ প্রশ্নটিকে আরও নিচে নামান। জ্ঞান জিনিসটা আসলে কী?
epistemology পড়লে একটি standard definition পাওয়া যায়: knowledge হলো justified true belief। কোনো একটি প্রশ্নে আপনার knowledge আছে কি না তার প্রমাণ হলো, আপনি যা believe করেন তা true, এবং সেই true belief রাখার ব্যাপারে আপনি justified। আমার true belief থাকতে পারে কিন্তু কোনো justification নেই — তাহলে সেটি knowledge হলো না। আমি জানি সূর্য পূর্ব দিকে ওঠে, কিন্তু জানি না কেন — epistemologist-দের মতে এটি knowledge নয়।
মুসলিম scholar-রা knowledge-কে ব্যাখ্যা করেছেন ভিন্নভাবে:
إِدْرَاكُ الشَّيْءِ عَلَى مَا هُوَ عَلَيْهِ
কোনো একটি জিনিসকে ঠিক সেভাবে comprehend করতে পারা, যেভাবে জিনিসটি বাস্তবে রয়েছে।
আসিফ লক্ষ করিয়ে দেন — এখানে justification-এর কথা আসেনি। কেন আসেনি? কারণ justification in itself controversial। আপনি কীভাবে জানবেন আপনি justified? আপনি বলবেন, আমারটা justified কারণ এটি scientific। তাহলে প্রশ্ন, যা scientific তাই justified — এটা কে বলল, science কী বলে? এবং এভাবে ad infinitum চলতে থাকবে। সুতরাং আসল জিনিস হলো একটি বিষয়কে properly বুঝতে পারা; সেটিই knowledge।
প্রেমিস এবং কনক্লুশন
প্রথম সেশনের শেষে আসিফ পুরো আলোচনাটিকে একটি logic-এর আকারে দাঁড় করান। আর logic শব্দটি নিয়ে তিনি আগেই সতর্ক করে রেখেছেন: logic মানে correct premise থেকে correct derivation-এর মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো। premise ঠিক না থাকলে এটি fallacy হয়ে যায়; derivation ঠিক না থাকলে আরেক ধরনের fallacy। ভুল premise থেকে সঠিক derivation করা যায়, কিন্তু তাতে সঠিক উত্তর আসে না।
premise-গুলো:
এক. আল্লাহ আল-আলীম এবং আল-হাদী। তিনি সব জানেন — এবং এখানে আক্বীদার একটি পয়েন্ট জানা দরকার: এই জ্ঞান ইকতিসাবী নয়, অর্জিত নয়। এমন কখনো হয় না যে আল্লাহ একটি জিনিস জানতেন না, এখন জানলেন। সম্পূর্ণ জ্ঞান তাঁর সিফাত হিসেবে সবসময় ছিল। একমাত্র এরকম কেউই জ্ঞান দিতে পারেন। আইনস্টাইন নন, rocket scientist-রা নন, যাঁর নামই বলুন না কেন — তাঁরা আলীম বা হাদী নন। আর তিনি আল-হাদী, অর্থাৎ তিনি জানানও।
দুই. আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই জ্ঞানের perfect carrier — কেবল তাঁর honesty ও personality-র কারণে নয়, আরবি ভাষার ওপর তাঁর supreme knowledge-এর কারণেও।
তিন. কুরআন ও সুন্নাহ ভাষাগতভাবেই knowledge-এর true source। ভাষাটিই বলে দিচ্ছে যে এটি আল-আলীম ও আল-হাদীর কাছ থেকে এসেছে — যা জানতে হলে আরবি ভাষায় study করতে হবে।
চার. কুরআন-সুন্নাহর ভাষাগত ব্যাখ্যা ও সাহিত্যিক বোধ প্রজন্মান্তরে narrate করা হয়েছে। এমন নয় যে কেবল সাহাবীরা বুঝেছিলেন আর তারপর ভাষা বদলে যেতে দেখে scholar-রা হাত গুটিয়ে বসে ছিলেন। আল্লাহ scholar-দের মধ্যে সেই inspiration দিয়েছেন পুরো ভাষাটিকে preserve করার।
পাঁচ. অন্য সকল ইসলামী applied জ্ঞান এই বোধেরই periodical extension। প্রতিটি শব্দ এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বোধটি সবসময়ই ছিল; সাহাবীরা ওই সাহিত্যিক বোধ, ওই linguistic framework বুঝে গিয়েছিলেন। যা periodically develop হয়েছে তা হলো Islamic knowledge-এর কাঠামো। আল্লাহর রাসূল নিজে knowledge-কে এভাবে ভাগ করেননি যে এটা আক্বীদা, এটা ফিকহ; তিনি সবকিছু একই depth-এ, একই breath-এ বলে গেছেন।
আর এই premise-গুলোর ওপর ভিত্তি করে conclusion দুটি।
প্রথম: interpretation-এর যোগ্যতা কেবল সে-ই রাখে, যার এই premise-defined comprehensive জ্ঞান রয়েছে। কোনো physicist, mathematician, statistician বা বাংলা গদ্য-কবিতায় পারদর্শী ব্যক্তি নন — যিনি ভাবছেন, আমি তো শিক্ষিত মানুষ, কুরআনের অনুবাদ রয়েছে, পড়ে বুঝে যাব। পড়া যেতেই পারে; কিন্তু সেটি কখনো إِدْرَاكُ الشَّيْءِ عَلَى مَا هُوَ عَلَيْهِ হবে না — একটি জিনিস যে বাস্তবতায় রয়েছে, সেই বাস্তবতায় বোঝা হবে না।
দ্বিতীয়: ইসলামের সঙ্গে secular skeptic knowledge-এর paradigm বহু knowledge consideration-এ ভিন্ন। এই কথাটি প্রথম সেশনে তিনি ব্যাখ্যা করেন না; তৃতীয় সেশনের জন্য রেখে দেন। কেন বলেন, সেটুকু জানিয়ে রাখেন — ইসলামের pristine knowledge-কে সঠিকভাবে বুঝতে চাইলে বহু bias থেকে নিজেকে আলাদা করতে হবে, এমনকি সেই bias-গুলো থেকেও যেগুলোকে আমরা নিজেদের positive বলে মনে করি।
দুই · মাযহাব: শিফটবিহীন প্যারাডাইম
দ্বিতীয় সেশনে আসিফের কাজ হলো প্রথম সেশনের filter ব্যবহার করে দেখা — ইসলামী knowledge সেখান থেকে যেভাবে develop করল, তার logic কী। এবং শুরুতেই তিনি expectation নামিয়ে রাখেন: এটি কোনো historical chronicle নয়। ঐতিহাসিকভাবে কী ঘটেছে তা এক সেশনে বলা সম্ভবও নয়। প্রশ্ন একটাই — development-টা হলো কেন।
তার আগে একটি ছোট পরীক্ষা। আগের সেশনের premise-গুলো তিনি ফিরে দেখেন, এবং প্রথমটিতে এসে আটকে যান: আল্লাহ আল-আলীম এবং আল-হাদী। কেউ একজন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাদী দিয়ে শুরু করেন, এবং আসিফ তাঁকে থামিয়ে দেন। হাদী আগে বললে চলবে না; আলীম আগে বলতে হবে। এই order-টা important।
কেন — সেটিই অধ্যায়টির প্রথম যুক্তি।
কেন আলীম আগে
পৃথিবীর সবচেয়ে জ্ঞানী মানুষটির কথা ভাবা যাক। নবীদের বাদ দিয়ে, যাঁরা সরাসরি ওহী পাচ্ছেন না তাঁদের মধ্যে ধরা যাক একজন আছেন — X — যিনি সবচেয়ে বেশি জানেন, সবচেয়ে বেশি বিষয় পড়েছেন। তবু আমরা জানি, তিনি সবকিছু জানেন না।
এবং এখানেই আসিফের মোড়টা। তাঁর অজানার পরিধি কতটুকু, সেটা আপনি জানবেন কী করে? যা আপনি জানেন না, তার ব্যাপ্তিও আপনার জানা নেই। মানুষের সামষ্টিক জ্ঞান নিয়ে ভাবলেও একই কথা — আমরা সবাই একমত যে আমাদের সম্মিলিত knowledge সব knowledge নয়, কিন্তু ঠিক কতটা নয় তা আমরা বলতে পারি না। তিনি physics-এর উদাহরণ দেন: বলা হয় ৯৫ শতাংশ dark matter ও dark energy, যাদের ব্যাপারে আমরা কার্যত জানি না। পুরো physics department কাজ করছে চার-পাঁচ শতাংশ নিয়ে।
সুতরাং যে নিজেই অজানা থেকে জানতে বাধ্য, সে আপনাকে guide করবে কীভাবে? সে যে knowledge-ই দিক, আপনি কী করে বলবেন যে এটুকুই আপনার জন্য যথেষ্ট? একমাত্র যিনি সব জানেন, তিনিই accurate knowledge দিতে পারেন। এ কারণেই আলীম নামটি প্রথম।
কিন্তু কেবল আলীম যথেষ্ট নয়। যিনি সব জানেন, তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন যে কাউকে জানাবেন না। এবং এটি নিছক সম্ভাবনা নয়, এটি একটি প্রতিষ্ঠিত belief — deism। বহু বিজ্ঞানী deist; অনেকে মনে করেন আইনস্টাইনও ছিলেন। তাঁদের অবস্থান, God আছেন — কারণ universe যেভাবে আছে তার জন্য কোনো একটা force থাকা লাগে — কিন্তু organized religion তাঁরা মানেন না। এত বড় universe-এ এত ছোট একটি পৃথিবীর এত ছোট একটি প্রাণীকে তিনি গাইড করছেন, এটা তাঁদের কাছে doesn't make sense।
এর বিপরীতে আসিফ একটি সূক্ষ্ম কিন্তু নির্ধারক পর্যবেক্ষণ রাখেন। আল্লাহ কুরআনে বলছেন না যে ‘জেনে রাখো, আমি সব জানি এবং আমি তোমাদের গাইড করি’। তিনি বলছেন, এটি আমার নাম। আল-আলীম, আল-হাদী। আমাদের নামের মতো নয় — অর্থহীন, বা অর্থপূর্ণ কিন্তু ব্যক্তির সঙ্গে না-মেলা। এগুলো গুণবাচক নাম। তিনি সত্তাগতভাবেই গাইড করেন।
আসিফ এখানে একটি আক্ষেপ যোগ করেন: আমরা কুরআনকে এভাবে অবহেলা করে চলি বলেই আমাদের জ্ঞানের গভীরতা বাড়ে না। আল্লাহর নাম ও সিফাতগুলোর significance নিয়ে আমরা চিন্তাই করি না।
জ্ঞান প্রথমে জাম্বলড থাকে
পরের premise-এ একটি শব্দ নিয়ে তিনি আটকান — periodic extension। শুধু extension বললেই তো হতো; periodic কেন?
কারণ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো বলেননি, এটি আক্বীদার জ্ঞান, এটি ফিকহের, এটি উসূলের। তিনি সবকিছু একই depth-এ বলে গেছেন। সাহাবীদের মধ্যে কোনটা কোন ধরনের understanding সেই sense ছিল, কিন্তু তাঁরা একে academically develop করেননি। নলেজ জিনিসটাই এরকম — প্রথমে একটা jumbled অবস্থায় থাকে, তারপর categorized হয়।
এবং এটি ইসলামের exclusive বৈশিষ্ট্য নয়। যেকোনো science, যেকোনো subject এভাবেই develop করে। কোনো একটা intellectual deadlock তৈরি হয়, মানুষের understanding jumbled হয়ে যায়, confusion আসে — তখন কেউ কেউ দেখেন যে কিছু জিনিস আলাদা করে না দেখলে বোঝা যাচ্ছে না, এবং তাঁরা বিষয়টিকে সাজান। This is how a subject is created।
তিনি physics দিয়ে দেখান। নিউটন — গভীরভাবে ধার্মিক একজন খ্রিষ্টান — motion বুঝতে চেয়ে ক্যালকুলাস তৈরি করলেন, যার পেছনের assumption ছিল ইউক্লিডিয়ান জ্যামিতি। তারপর আইনস্টাইন দেখালেন, গতি খুব বেড়ে গেলে নিউটনের কাঠামো কাজ করছে না, এবং ইউক্লিডিয়ান জ্যামিতি নিজেই হোল্ড করছে না — spacetime-এ curvature আছে। তখন দরকার হলো general theory of relativity। এরপর দূরত্ব atomic level-এ নামলে আবার কোনোটাই কাজ করছে না, এল quantum mechanics।
আসিফ এখানে নিজের সম্পর্কে একটি সতর্কতা দেন যা তাঁর পদ্ধতির অংশ: এগুলো শুনে চমৎকৃত হওয়ার কিছু নেই, তিনি নিজেও physics জানেন না, এবং এই তথ্যগুলো knowledge নয় — it's just something that aids the actual understanding। ঠিক এখানেই আমরা গাছ দেখতে গিয়ে বন হারাই।
একটি শব্দ, তিনবার
মূল আলোচনায় ঢোকার জন্য তিনি তিনটি আয়াত বেছে নেন — একই শব্দ, তিন জায়গায়।
নিশ্চয় আমিই এই যিকর অবতীর্ণ করেছি, এবং নিশ্চয় আমিই এটির সংরক্ষক। এই আয়াতটি সবাই চেনেন, এবং যিকর বলতে এখানে কুরআন বোঝা হয়। কুরআনের অন্যান্য নামের মতো — যেমন ফুরকান — যিকরও একটি নাম।
আমি তোমার কাছে যিকর অবতীর্ণ করেছি, যাতে তুমি মানুষকে ব্যাখ্যা করতে পারো তাদের কাছে যা অবতীর্ণ হয়েছে।
এখানে যিকর কী? অনেক ব্যাখ্যায় এটিও কুরআন। কিন্তু কোনো কোনো scholar বলেছেন — এবং আসিফ সতর্কভাবে যোগ করেন যে তিনি এটিকে একমাত্র বা সঠিক ব্যাখ্যা বলছেন না, কেবল জানিয়ে রাখছেন — এখানে যিকর বলতে সুন্নাহ বোঝানো হয়েছে। কারণ যদি তা না হয়, একটি logical problem দাঁড়ায়: আমি তোমার কাছে যিকর পাঠিয়েছি যাতে তুমি ব্যাখ্যা করতে পারো তাদের কাছে যা এসেছে — আর তাদের কাছে যা এসেছে সেটিও যদি সেই একই যিকর হয়, তাহলে বলা হচ্ছে, ওই জিনিসটাকেই পাঠিয়েছি ওই জিনিসটাকে ব্যাখ্যা করার জন্য। How does that make sense?
তৃতীয়টি ঠিক তার আগের আয়াত — সূরা নাহল, ৪৩ — কিন্তু আসিফ একে পরে আনেন, ইচ্ছে করেই:
শ্রোতারা উত্তর দেন — knowledge, expertise। আসিফ থামিয়ে দেন। আয়াতটির context কুরআনও নয়, হাদিসও নয়, knowledge-ও নয়। Context হলো: ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে যাঁরা আহলুয যিকর, তাঁদের জিজ্ঞেস করো — যাঁরা সত্যিকার অর্থে তাঁদের ধর্মগ্রন্থকে জানেন। তাঁরা আসলে জানেন যে এই নবীই প্রকৃত নবী।
এখানে একটি প্রশ্ন উঠতে পারে — তাহলে আলেমরা কি ভুল করছেন, যখন এই আয়াত দিয়ে বলেন ‘না জানলে জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করো’? আসিফের উত্তর: না। কথাটি তো সব জায়গাতেই সত্য। এমন তো নয় যে ইহুদি বা খ্রিষ্টানদের জ্ঞান জানতে হলে তাঁদের জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করতে হবে, কিন্তু ইসলামে এসে আর জ্ঞানীদের জিজ্ঞেস করার দরকার নেই। আমাদের intellect দিয়েই আমরা বুঝি যে আয়াতটিকে generalize করা যায়, এবং scholar-রা সেটা বুঝেই করেছেন।
কিন্তু তাঁর আসল পয়েন্ট অন্যত্র। এমনকি যদি আপনি আয়াতটিকে কেবল আগের ধর্মের মানুষদের ওপরই প্রয়োগ করেন — তাঁদের জ্ঞান কি শুধু তাওরাতের জ্ঞান? শুধু তাওরাতের literal শব্দগুলোর জ্ঞান?
আসিফ ইতিহাস টানেন। আরবে আসার সময়ের মধ্যেই ইহুদিদের অধ্যয়নপদ্ধতি সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছিল। তাঁদের প্রধান study তখন তালমুদিক। তালমুদ অনেকটা তাফসীরের মতো, কিন্তু এমন এক বিশাল তাফসীর যেখানে তাওরাতের চেয়ে তালমুদের গুরুত্বই বেশি হয়ে গেছে। তালমুদ খুললে দেখা যায়, ছোট্ট করে মাঝখানে তাওরাতের একটি text, আর তাকে ঘিরে প্রচুর box-করা আলোচনা — ঐতিহাসিকভাবে rabbinical study-র প্রধান ব্যক্তিদের commentary।
এবং আল্লাহ তাঁদেরকেই জিজ্ঞেস করতে বলছেন।
সুতরাং যিকর মানে verbatim text নয়, text-এর অনুবাদ তো নয়ই — it's the total study experience।
তিনটি আয়াত একসঙ্গে রাখলে ছবিটা দাঁড়ায় এরকম। প্রথমটিতে যিকর কুরআন — ভুল নয়। দ্বিতীয়টিতে কুরআন, অথবা সুন্নাহ — সেটিও ভুল নয়; যিকর দুটি অর্থই ধারণ করে। তৃতীয়টিতে যিকর কেবল কুরআন ও হাদিস নয়, revelation-কে ঘিরে গড়ে ওঠা সমগ্র knowledge — সেটিও ভুল নয়।
আর যিকরের আভিধানিক অর্থ কী? স্মরণ করা। সুতরাং এটি সেই পুরো study system, যা আপনাকে সত্যিকার অর্থে আল্লাহকে স্মরণ করাবে।
আসিফ শেষ পেরেকটি এখানে ঠোকেন। আল্লাহ চাইলে যেকোনো overarching শব্দ ব্যবহার করতে পারতেন — العِلْم, أَهْلُ العِلْم। সেই শব্দও কুরআনের জন্য, হাদিসের জন্য, সামগ্রিক ইসলামী জ্ঞানের জন্য ব্যবহার করা যেত। কিন্তু তিনি ব্যবহার করেছেন যিকর — এমন একটি শব্দ যা শুধু জিনিসটির intellectual ব্যাপ্তি দেয় না, একই সঙ্গে তার purpose-ও বলে দেয়। ইসলামী জ্ঞানের উদ্দেশ্য শেষ পর্যন্ত আল্লাহর যিকর।
একটি litmus test
এখান থেকে তিনি একটি কষ্টিপাথর তৈরি করেন, যেটি তাঁর নিজের বহু বছরের পর্যবেক্ষণ।
যাঁরা traditional ইসলামী development-কে intellectually deny করার চেষ্টা করেন, যাঁরা বলেন কুরআন-হাদিস ঠিক আছে কিন্তু মাঝখানে অনেক problem হয়ে গেছে আর এখন আমরা আবার সঠিক জায়গায় ফিরছি — তাঁদের নাম তিনি নেবেন না, কারণ এমন ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও institution প্রচুর।
বদলে তিনি একটি test দেন। তাঁদের কাজ একটি লম্বা সময় ধরে observe করুন, এবং নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: তাঁরা আপনাকে কতটা আল্লাহর যিকর করতে সাহায্য করছেন? তাঁদের ধারাবাহিক কথার মাধ্যমে আপনার মন বা জিভ কতটা আল্লাহর যিকরে আর্দ্র হচ্ছে, আপনার নামাজ কতটা ভালো হচ্ছে, আপনার রোজা কতটা উন্নত হচ্ছে।
প্রশ্নটি নয় — কার কথা বেশি ধারালো শোনাল।
যিকরের মাদরাসা
এই বিন্দুতে আসিফ বইটির নামটি উচ্চারণ করেন: ইসলামী পড়াশোনা হচ্ছে যিকরের মাদরাসা। ইসলামের প্রাথমিক ঐশী জ্ঞান, কুরআন ও সুন্নাহ, এবং পরবর্তীতে এই knowledge-এর development ও extension — পুরো জিনিসটাই যিকরের মাদরাসা।
এর দুটি বৈশিষ্ট্য তিনি আলাদা করেন। প্রথমত, কুরআন-সুন্নাহ ও আরবি ভাষার জ্ঞান-সম্বলিত সামষ্টিক জ্ঞানের চর্চা। দ্বিতীয়ত, পরবর্তী প্রজন্মের জন্য সেই জ্ঞানকে ধরে রাখা।
এবং এটি বিমূর্ত নয়। সাহাবীরা বিভিন্ন জায়গায় গেলেন এবং সেখানে সেই মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করলেন। কুফার উদাহরণ তিনি বিস্তারিত দেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রথম প্রধান স্কলার-সাহাবী হিসেবে সেখানে আসেন, এবং তাঁর সঙ্গে আসেন প্রায় দেড় হাজার সাহাবী। সবাই স্কলার না হলেও এত বড় একটি সংখ্যা জ্ঞানের একটি মাদরাসা তৈরি করে ফেলল। পরে আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এলেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ আবার উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর চিন্তাপদ্ধতিকে গভীরভাবে internalize করে পড়াতেন, নিজের মতের জায়গায় উমরের মতকে প্রাধান্য দিয়ে — ফলে তাঁর মাধ্যমে উমরের জ্ঞানও এল।
তাঁদের কাছ থেকে এলেন ছাত্ররা — আলক়ামা। আলক়ামার পরে ইব্রাহীম আন-নাখায়ীর মতো মানুষেরা। তাঁদের কাছ থেকে জ্ঞান নিলেন হাম্মাদ ইবনে আবি সুলাইমান, এবং তাঁর প্রধান ছাত্র ছিলেন ইমাম আবু হানিফা — যিনি ইন্তেকাল করেছেন ১৫০ হিজরিতে।
আসিফ এখানে একটি অনুপাত দেন যা অস্বস্তিকর। এই মাদরাসায় কেবল ‘এ ব্যাপারে কুরআন কী বলেছে, কোনো হাদিস আছে কি না’ — এটিই একমাত্র জ্ঞান নয়। মোট knowledge project-এর দশ শতাংশও হবে না কুরআন ও হাদিসের text। সেই দশ শতাংশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দশ শতাংশ — কিন্তু there is a whole lot going on over there।
মাযহাব হচ্ছে ইলম
মাযহাব জিনিসটা তাহলে কী?
আসিফ বলেন, সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত এবং সবচেয়ে profound উত্তরটি তিনি পেয়েছেন শায়খ সলাহ আবুল হাজ্জের কাছ থেকে — জর্ডানের একজন হানাফী ফাকীহ। কেউ তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, কাউকে মাযহাব বোঝাতে হলে কীভাবে বোঝাব? তিনি বলেছেন:
المَذْهَبُ عِلْمٌ
মাযহাব হচ্ছে ইলম। মাযহাব হচ্ছে নলেজ।
প্রথমে উত্তরটি নিরীহ শোনায়। আসিফ খুলে দেখান। আপনি যখন ‘ইসলামিক নলেজ’ কথাটা ব্যবহার করেন, সেই knowledge-এর প্রক্রিয়া, তার স্কুল, তার অবস্থান, তার extension — এটিই মাযহাব। মাযহাব ছাড়া এটি চিন্তাই করা যায় না। It is through মাযহাব যে ইসলামিক নলেজ বলে কোনো একটি জিনিস আপনার কাছে এসেছে।
এরপর তিনি খুব সাবধানে শব্দ বাছেন, এবং শ্রোতাদেরও সাবধানে শুনতে বলেন: মাযহাব ছাড়া কুরআন ও হাদিসের text-গুলো থাকার কোনো অর্থ নেই। কারণ মাযাহিবই সেই উসূল ব্যাখ্যা করছে যা দিয়ে কুরআন-হাদিসকে access করা যায়। একে methodology বলা যায়, paradigm বলা যায়, school of thought বলা যায় — but this is the ilm।
counterfactual যেখানে নেই
তাহলে যাঁরা বলেন মাযহাব মানা যাবে না, তাঁদের অবস্থানটি কী?
আসিফ স্পষ্ট করেন, খ্যাঁচড়া ধরনের সমালোচনায় তাঁর আগ্রহ নেই — যেখানে নলেজ বাদ দিয়ে শুধু নিজের পক্ষ ভারী করা হয়। বদলে তিনি social science থেকে একটি ধারণা আনেন: counterfactual।
ধারণাটি বোঝাতে তিনি একটি প্রশ্ন বেছে নেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বলে দেন যে এটি agree বা disagree করার জন্য নয়। ধরা যাক কেউ দাবি করলেন, একাত্তরে ভারত শেষদিকে সাহায্য না করলে বাংলাদেশের বেশি লাভ হতো। আপনি রাজনৈতিকভাবে যা-ই মনে করুন, accurately বলতে পারবেন না কোনটা হতো — কারণ আরেকটা বাংলাদেশ বানিয়ে এবার ভারতকে বাদ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে দেখা যাচ্ছে না।
এই যে করতে পারছেন না — এটাই counterfactual না থাকা। Science সাধারণত counterfactual তৈরি করে নিতে পারে; ওষুধ পরীক্ষায় placebo-র মাধ্যমে একটি group-কে আসল ওষুধ, আরেকটিকে নয়। ইতিহাস ও রাজনীতিতে সেই সুবিধা নেই।
মাযহাবের ক্ষেত্রেও তাই। চারটি মাযহাব majority aspect-এ ইসলামী নলেজকে develop করে আমাদের কাছে নিয়ে এসেছে, এবং এটির কোনো counterfactual নেই। কিন্তু অনেকে এমনভাবে কথা বলছেন যেন মাযহাব না থাকলেও এই সবকিছু এমনই হতো।
আসিফের ভাষায়: আপনি ইতিমধ্যেই মাযহাবের তৈরি করে দেওয়া টেবিলে বসে মাযহাবকে deny করছেন। মাযহাবের যে aspect আপনার পছন্দ হচ্ছে না, সেটিকে ওই টেবিলে বসেই deny করছেন; আর যে aspect পছন্দ হচ্ছে, সেটির ব্যাপারে pretend করছেন যে ওটা মাযহাব ছাড়াই হতো।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেকটি সমস্যা, যা আরও শান্ত ও আরও গভীর। আমরা যাঁদের বিরোধিতা করছি, তাঁদের সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান এসেছে আমাদের পছন্দের মানুষদের মাধ্যমে। এবং credentials দিয়ে এর মীমাংসা হয় না — মদিনা ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করা মানুষের কথা বলবেন? আজহারে পিএইচডি করা, দেওবন্দ থেকে ফারেগ হওয়া, ক্বারাবিয়্যীন থেকে তাখাররুজ করা মানুষের সমস্যা কী?
তিনি নিজের অবস্থানও গোপন করেন না। তিনি একসময় সালাফী বা আহলে হাদিস ধারার চিন্তায় ছিলেন, এবং সেখান থেকে traditional ধারায় এসেছেন। তাঁর দাবি এই নয় যে তিনি জিতেছেন; তাঁর দাবি এই যে তিনি rectify করার সুযোগ পেয়েছেন। কে কোন ধারায় আছেন, সেটি আল্লাহর তৌফিক, কারও intellectual supremacy নয়। logically নিজের stance ব্যাখ্যা করে এমন ভিত্তি দাঁড় করাতে বললে, যা থেকে বোঝা যাবে আপনিই সঠিক — আপনি পারবেন না।
ইমামরা কী করেছিলেন
চারজন — আবু হানিফা, মালিক, শাফেয়ী, আহমাদ ইবনে হাম্বল — ইতিহাসের একটি cross-section-এ এসে নিজস্ব opinion তৈরি করা লোক নন। তাঁরা ওই যিকরের মাদরাসারই formative উসূল তৈরি করার লোক।
আসিফ একটি কথা বলেন যা প্রথমে ধাক্কা দেয়: ইমাম আবু হানিফার মাযহাবের actual founder ইমাম আবু হানিফা নন। আসল ধারা আল্লাহর রাসূল থেকে, মূলত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ হয়ে। ইমাম আবু হানিফার প্রধান কাজটি হলো সেই ধারার formative উসূল তৈরি করা — তাঁর ছাত্রদের সহযোগিতায়। এমন নয় যে তিনি কিছু কথা বলে গেছেন আর সবাই বেদবাক্যের মতো মেনে নিয়েছে।
চারজনই মোটামুটি সমসাময়িক। আবু হানিফা ১৫০ হিজরিতে ইন্তেকাল করেছেন, এবং সেই বছরেই ইমাম শাফেয়ীর জন্ম। প্রায় একশো বছরের মধ্যে চারজনই operate করেছেন। এবং সেই সময়ে কেবল এই চারজনই মাযহাব করেননি — সুফিয়ান আস-সাওরী ছিলেন, লাইস ইবনে সা'দ ছিলেন, আরও অনেকে formative উসূল নিয়ে কাজ করেছেন। কিন্তু এই চারটির ক্ষেত্রে যা ঘটেছে তা পরিভাষায় বলা হয়:
تَلَقَّتْهَا الأُمَّةُ بِالقَبُولِ
পুরো উম্মাহ এই চারটিকে কবুল করে নিয়েছে।
ব্যতিক্রম যে ছিল না তা নয়। ইবনে হাযম ছিলেন। ইমাম বুখারীর কথাও আসিফ আনেন — বলা হয় তিনি প্রথমে শাফেয়ী মাযহাবে ছিলেন, কিন্তু তাঁর মাপের ব্যক্তির ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই কিছু নিজস্ব ধারা তৈরি হয়েছিল; he almost had a madhhab of his own। এবং এখানেই একটি অসামঞ্জস্য, যা আসিফ তুলে ধরেন: উম্মাহ তাঁর সহীহ হাদিসের গ্রন্থকে সম্পূর্ণভাবে গ্রহণ করেছে — সুন্নি মুসলিমদের কাছে এটি arguably মানুষের লেখা সর্বোত্তম বই। অথচ তাঁর independent মাযহাবকে কেউই গ্রহণ করেনি। কেউ বুখারী মাযহাবে চলে না।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদিস
মাযহাব যে ‘কিছু পুরোনো মানুষের কিছু opinion’ নয়, সেটি দেখাতে আসিফ একটি উদাহরণ নেন।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত একটি হাদিস আছে — ওলির অনুমতি ছাড়া কোনো মেয়ের বিয়ে হতে পারে না। অথচ ইমাম আবু হানিফা ওলির অনুমতি ছাড়া হয়ে যাওয়া বিয়েকে valid বলেছেন। তিনি এটি পছন্দ করেননি, কিন্তু valid বলেছেন।
শ্রোতাদের প্রথম অনুমান — তিনি হাদিসটি জানতেন না, কিংবা গ্রহণ করেননি। আসিফ বলেন, এই ধরনের ঘটনা কখনো কখনো ঘটে, এবং এতে আঁতকে ওঠার কিছু নেই; অনেক আলেম এবং অনেক সাহাবীও বিভিন্ন কারণে কোনো একটি হাদিস গ্রহণ করেননি। কিন্তু এই ক্ষেত্রে ঘটনা সেটি নয়।
যে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এই হাদিস বর্ণনা করেছেন, সেই তিনিই নিজে তাঁর এক আত্মীয়ার বিয়ে দিয়েছেন ওলির অনুমতি ছাড়া। পরবর্তীতে সেই ওলি ফিরে এসে তাঁর এই কাজকে ratify করেছেন।
এবং এখানেই হানাফী উসূল কাজ করে। যদি একজন সাহাবী যা narrate করছেন এবং নিজে যা করছেন তার মধ্যে ইখতিলাফ থাকে, তাহলে:
الْعِبْرَةُ بِمَا رَأَى وَلَا بِمَا رَوَى
আমাদের guiding factor হবে তিনি যা মনে করতেন, তিনি যা বর্ণনা করেছেন তা নয়।
অন্য মাযহাবের পুরোধা ব্যক্তিরা আবার মনে করতেন, যা তিনি মনে করতেন তার চেয়ে যা তিনি বর্ণনা করেছেন সেটিই বেশি important। দুটোই উসূল। দুটোই কারণসহ।
আসিফ তারপর যেটা বলেন, সেটাই আসলে এই উদাহরণের কারণ: আপনার কাছে হাদিসটি আসবে। এই discussion-টা আসবে না। আর একটি মাত্র example শুনে ‘আমার তো আবু হানিফার মতটা ঠিক মনে হচ্ছে না’ ভাবতে শুরু করলে, you are living in a fool's paradise।
সাহাবীদের আমল কীভাবে জানা গেল — এই প্রশ্নেই উত্তরটি লুকিয়ে আছে। Because they had a madrasa of their own। সাহাবীরা কেবল হাদিস mention করে জ্ঞান দেননি; তাঁরা নিজেরা ফকীহ ছিলেন, মুফতি ছিলেন, applied জায়গায় জ্ঞানকে প্রয়োগ করেছেন এবং পরবর্তী প্রজন্মকে দিয়েছেন।
শিফটবিহীন প্যারাডাইম
শেষ ধারণাটি আসিফ ধার করেন বিজ্ঞানের দর্শন থেকে। Thomas Kuhn তাঁর groundbreaking বইয়ে দেখিয়েছেন, বিজ্ঞান আসলে paradigm shift-এর মধ্য দিয়ে যায়। Paradigm হলো চিন্তা ও বিন্যাসের একটি distinct model — স্কুল কেমন হবে, বাচ্চাদের কী পড়াব, ল্যাব কেমন হবে, কোন ধরনের গণিত দিয়ে কাজ করব, department কেমন হবে। একটি paradigm যতদিন relevant থাকে, সবাই সেটিকেই follow করে; তারপর shift আসে, আগের paradigm-এর উপাদানগুলো কমবেশি বাতিল হয়ে যায়, এবং সবাই নতুনটিতে কাজ শুরু করে।
Natural science, social science — সবই এই পথে চলে।
মাযহাব একটি paradigm বটে, কিন্তু শিফটবিহীন। আর কারণটা আসিফের কাছে অত্যন্ত সরল: বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কোনো ওহী নেই। There is no revelation, no standard to check back to। প্যারাডাইমটা মানুষেরই তৈরি; মানুষ যখন সম্মিলিতভাবে বোঝে যে এটি আর কাজ করছে না, তারা এটি ছেড়ে দেয়।
ইসলামের ক্ষেত্রে সেটি ঘটে না। মাযহাবই সেই paradigm, এবং এখান থেকে shift করার জায়গা নেই। আর ইসলামের ক্ষেত্রেও নিশ্চয়ই paradigm shift হতে হবে — এটি মনে করাটাই, আসিফ বলেন, আধুনিক মানুষের bias। এরকম কোনো logical necessity নেই।
সেকুলার যেকোনো বিষয়ই শেষ পর্যন্ত বিজ্ঞানকে imitate করতে চায়, ফলে বিজ্ঞানের চরিত্র তাদের মধ্যে ঢুকে যায় — সবাই paradigm shift-এ বিশ্বাস করে, ধারণাটির নাম না জেনেও। এক সকালে সব বদলে যেতে পারে, এই বোধ নিয়ে তারা চলে।
এবং এখান থেকেই আসিফের শেষ সতর্কতা: আপনি মাযহাব না মানলেও ইসলাম নিয়ে পড়াশোনা করতে গেলে কোনো না কোনো মাযহাবে আসতেই হবে। ফতোয়ার সাইটে গিয়ে দেখবেন প্রতিটি মাযহাব কী বলেছে তা লিখে তারপর একটি reason দেওয়া হচ্ছে।
জ্ঞানের তিনটি স্তর
এই paradigm-এর ওপর ভিত্তি করে যে জ্ঞান develop করেছে, আসিফ তাকে তিন ভাগে সাজান।
Tool disciplines — عُلُومُ الآلَة। ‘আলাহ’ মানে যন্ত্র। এগুলো নিজে ইসলামী জ্ঞানের মাকসিদ বা লক্ষ্য নয়, কিন্তু সেই লক্ষ্য অর্জনের যন্ত্র। এর মধ্যে আছে আরবি বিজ্ঞানগুলো — গালায়ীনীর সেই তেরোটি। আছে logic, যেটিকে আমাদের সময়ে একটি গোষ্ঠী demonize করে; আসিফ বলেন, logic-কে demonize করার কোনো জায়গা নেই। ঐতিহাসিকভাবে কেউ কেউ সাবধানতা অবলম্বন করেছিলেন কারণ তাঁদের মনে নির্দিষ্ট কিছু মানুষ ও প্রবণতা ছিল; সেই শব্দ তখন ওই অর্থে প্রচলিত ছিল। পড়াশোনার ধারাবাহিকতা না থাকলে quotation দেখে ভুল বোঝা সহজ। আছে তাজবীদের নিয়মগুলো — নিয়ম জানা tool, তিলাওয়াত নিজেই লক্ষ্য। আর আছে উসূল disciplines: তাফসীর, উলূমুল কুরআন, উলূমুল হাদিস, উসূলুল ফিকহ।
Core disciplines — عُلُومُ المَقَاصِد। এখানে আসিফের starting point হাদিসে জিবরীল। জিবরীল আলাইহিস সালাম মানুষের বেশে এসে তিনটি core প্রশ্ন করেছিলেন। ইসলাম কী — সেই উত্তর থেকে এসেছে ফিকহ: শাহাদাহ, নামাজ, যাকাত, রোজা, হজ; আর এর সঙ্গে যুক্ত মুয়ামালাত, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিয়ে-শাদী, হালাল-হারামের খতিয়ান। ঈমান কী — সেই উত্তর থেকে আক্বীদা ও ইলমুল কালাম। ইহসান কী — সেই উত্তর থেকে তাসাউফ।
আক্বীদা আর ইলমুল কালামের পার্থক্য তিনি দর্শনের একটি জোড়ার সঙ্গে মেলান — dogmatic theology এবং natural theology; exact translation নয়, কিন্তু একটি similitude আছে। আক্বীদা হলো কুরআন ও সুন্নাহ থেকে সরাসরি যে বিশ্বাস derive করা যায়। আর ইলমুল কালাম তখন শুরু হলো যখন মানুষ কুরআন-হাদিসের কথা থেকেই বিভিন্ন উল্টোপাল্টা মত দিতে শুরু করল — যেখানে শুধু আয়াত quote করে আর কিছু করা যাচ্ছে না। তখন উলামারা কুরআন-হাদিস থেকে সরে নয়, বরং কুরআন-হাদিসকে মাথায় রেখেই logically expand করা শুরু করলেন — কেন ওই কথাগুলোকে ওভাবেই বুঝতে হবে।
তাসাউফের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অপবাদের ইতিহাস আছে, এবং আসিফ স্বীকার করেন যে তাঁর নিজের সালাফী পটভূমির সময় তিনি মনে করতেন সুফিজম মানেই খারাপ কিছু। তাসাউফের সঠিকতা, তিনি বলেন, ফেসবুকের রাজনৈতিক বিতর্ক থেকে আসবে না — শবে বরাতে হালুয়া-রুটি বিদআত কি না, এই ধরনের চড়া গলার কথাবার্তা থেকে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয় না। দুটি অপশনের একটি হয়তো ঠিক, কিন্তু ঠিকে পৌঁছানোর যে রাস্তা আমরা বেছে নিয়েছি, সেটি ভুল।
তাসাউফের সবচেয়ে সুন্দর সংজ্ঞাটি তিনি নেন শায়খ আহমাদ যাররূকের কাওয়ায়িদুত তাসাউফ থেকে। দুশো-আড়াইশোর বেশি সংজ্ঞা পাওয়া যায়; সেগুলো পর্যবেক্ষণ করে এক কথায় আনলে দাঁড়ায়:
صِدْقُ التَّوَجُّهِ إِلَى اللهِ
আল্লাহর দিকে সত্যিকার অর্থে নিজেকে ফেরানো। আসিফ প্রশ্নটি সরাসরি করেন — গত এক মাসে কয়টা নামাজে আপনার মন ছিল?
আর যাঁরা তাসাউফের জ্ঞানকে বিকৃত করেছেন, তাঁদের সবচেয়ে বড় সমালোচক কে? আসিফ একটি বই থেকে উদ্ধৃত করেন — সুফি স্কলাররা নিজেরাই। তাঁদের লেখাতেই এই সমালোচনা সবচেয়ে বেশি এসেছে।
Additional disciplines — عُلُومُ المُلَح। ‘মুলাহ’ এসেছে ‘মিলহ’ থেকে, যার অর্থ লবণ। অর্থাৎ মূল খাবারের পাশে যেটুকু। ইতিহাস, রাজনীতি, ফাইন্যান্স, ইকোনমিক্স — প্রয়োজন অনুযায়ী আরও অনেক। ইবনে কাসীরের আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া ইতিহাসের বই; ইমাম আল-মাওয়ার্দীর আল-আহকামুস সুলতানিয়্যাহ-কে রাজনীতির pinnacle বই ধরা হয়, যার ওপর পরবর্তীতে অনেক সমালোচনাও হয়েছে। এগুলো important knowledge, কিন্তু core sense-এ important নয়।
ইবনে খালদুনের মুকাদ্দিমা প্রসঙ্গে তিনি একটু রূঢ় হন। জাকারবার্গ পড়েছেন বলে আমাদেরও পড়ে ফেলতে হবে — এই তাড়না থেকে বই পড়লে হয়তো কিছুই হবে না, কারণ এটি পড়ার জায়গায় আমরা এখনো আসিনি।
এবং এখান থেকে একটি সাধারণ ভুল তিনি ভেঙে দেন: বেশি বই পড়লে বেশি জ্ঞান হবে — এই কথার কোনো ভিত্তি নেই। বহু বই পড়ার মাধ্যমে আপনার নলেজ উল্টো মাইনাসের দিকে চলে যেতে পারে। একই বিষয়ে অনেকে অনেক মত দিয়ে অনেক বই লিখেছেন; সবগুলো পড়ে আপনি বুঝে যাবেন কে ঠিক বলছেন — who told you that?
Red alert
সেশনের শেষ স্লাইডে তিনি একটি সতর্কবার্তা রাখেন: hypothetical নলেজের ব্যাপারে সাবধান হোন। আপনি এখনো ওই paradigm-এর অংশ নন।
এবং সঙ্গে সঙ্গে ভারসাম্যটিও রাখেন। hypothetical নলেজের দরকার আছে — তিনি যা বলেছেন তা শ্রোতার মনে এক ধরনের perception তৈরি করছে, যার অনেকটাই hypothetical। সেখান থেকে কিছু জিনিস appreciate করা হবে, কিছু ভুল বোঝা হবে। তাতে সমস্যা নেই; কোনো একটা জায়গা থেকে তো শুরু করতে হবে। একদম না জানার চেয়ে কিছু জানা ভালো, কিছু ভুল থাকা ভালো।
সমস্যা তখনই, যখন আধা-জ্ঞান নিয়ে আবার রাস্তায় নেমে পড়া হয় — এখান থেকে এই বই, ওখান থেকে ওই বই, আমি তো এই মাযহাব মানি, আমি তো মাযহাব মানি না, এই বিতর্কের ভেতরে চলতে থাকা।
তিন · বাইবেলীয় সংকট
প্রথম দুটি সেশন ছিল অতীত নিয়ে — মুসলিম স্কলাররা কী করেছেন। তৃতীয় সেশনে আসিফ প্রশ্ন বদলান: আমরা এই মুহূর্তে যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, বর্তমান মুসলিমের চিন্তাভাবনা ও মানসিকতার এই জায়গাটা এল কোথা থেকে?
তাঁর উত্তর: পশ্চিমে। মধ্যযুগের পশ্চিমে। এবং সেটিকে চিহ্নিত করতে চাইলে বলা যায় — the biblical crisis, বাইবেলের সংকট।
আলোচনাটি তিনি শুরু করেন একটি উদ্ধৃতি দিয়ে, যেটি শ্রোতাদের আগেই পড়তে দেওয়া হয়েছিল। কথাগুলো উইলিয়াম টিনডেলের — ইংরেজিতে বাইবেল অনুবাদকদের প্রথম দিককার একজন।
Saint Jerome also translated the Bible into his mother tongue. Why may not we also? They will say it cannot be translated into our tongue, it is so rude. It is not so rude as they are false liars. For the Greek tongue agreeth more with the English than with the Latin.
টিনডেল কখন ছিলেন, সে ব্যাপারে আসিফ নিজেই অনিশ্চিত — আলোচনায় তিনি কয়েকটি সময় বলে শেষে স্বীকার করেন যে তাঁর exactly খেয়াল নেই, এবং শ্রোতাদের নিজে check করে নিতে বলেন। এই বইও তাই কোনো নির্দিষ্ট সাল বসায়নি। যা নিশ্চিত তা হলো, টিনডেল অনুবাদ শেষ করার আগেই খুন হন। সেখান থেকেই তখনকার উত্তেজনার মাপটা বোঝা যায়।
সেন্ট জেরোম এবং ভালগেট
টিনডেল যাঁর কথা বলছেন, সেই সেন্ট জেরোম ছিলেন ল্যাটিনে বাইবেল অনুবাদকদের প্রথম দিককার একজন। তিনি একমাত্র নন, কিন্তু তাঁরটিই প্রধান — এবং পরবর্তীতে রোমান ক্যাথলিক চার্চের standard বাইবেল ছিল তাঁরই অনুবাদ, যার নাম ভালগেট।
টিনডেলের যুক্তিটি এখানে সরল এবং ধারালো। জেরোম যদি অনুবাদ করতে পারেন, আমরা কেন পারব না? বাইবেল তো ল্যাটিনে ছিল না; তিনি ল্যাটিনে অনুবাদ করেছেন। আমরা ইংরেজিতে করতে সমস্যা কী?
আর তখনকার চার্চের আপত্তি ছিল — ইংরেজি ভাষাটি এ কাজের জন্য যথেষ্ট মার্জিত নয়, it is so rude। আজ যেখানে ইংরেজির জয়জয়কার, সেখানে এই আপত্তিটি অদ্ভুত শোনায়। কিন্তু আসিফ মনে করিয়ে দেন, প্রায় তিনশো বছর ইংল্যান্ডের প্রধান ভাষা ছিল ফরাসি, কারণ একজন ফরাসি রাজা তখন শাসন করছিলেন। ইংরেজি ছিল সাধারণ মানুষের আঞ্চলিক ভাষার মতো।
টিনডেলের মূল দাবিটি ভাষাতাত্ত্বিক: গ্রিকের সঙ্গে ল্যাটিনের চেয়ে ইংরেজির sentence structure অনেক বেশি মেলে। ল্যাটিনে গ্রিকের সঙ্গে মেলাতে গেলে অনেকটা compass সেট করতে হয়; এবং তা করলেও literary বহু ব্যাপার থেকে যায় — same grace and sweetness পেতে প্রচুর কাজ করতে হয়। ইংরেজির এই baggage নেই।
ভাষার সিঁড়ি
এখানেই আসিফ প্রশ্নটি উল্টে দেন। বাইবেল আসলে কোন ভাষায় লেখা?
পুরোনো নিয়মের একটি বড় অংশ এসেছে মূসা আলাইহিস সালামের সময়ে, এবং তিনি হিব্রুতে কথা বলতেন। কিন্তু সেই হিব্রু ভাষাটিই আর নেই; এখনকার হিব্রু তা থেকে অনেকাংশে ভিন্ন। আর সেই প্রাচীন হিব্রুর একটি বৈশিষ্ট্য ছিল — লিখিত রূপে কোনো স্বরবর্ণ ছিল না। ভাষায় স্বরধ্বনি অবশ্যই ছিল, কিন্তু লেখা হতো না।
এরপর যা ঘটল, সেটিই মূল কথা। খ্রিষ্টপূর্ব দুই-তিনশো বছরের মধ্যে — অর্থাৎ ঈসা আলাইহিস সালাম আসারও আগে — পুরোনো নিয়ম নিজেই গ্রিকে লেখা হয়ে গেছে, কারণ তখন গ্রিক সাম্রাজ্য ও দর্শনের জয়জয়কার। ঐতিহাসিকভাবে বর্ণিত আছে যে ততদিনে অধিকাংশ ইহুদি হিব্রু জানতেন না — আমাদের কাছে কথাটা strange লাগে, কারণ আমাদের ধারণা ইহুদিরা বুঝি সবসময় হিব্রুতেই কথা বলে এসেছেন।
তারপর ঈসা আলাইহিস সালাম এলেন। তিনি আরামাইকে কথা বলতেন — এবং সেই ভাষাও lost, এ ভাষায় আর কেউ কথা বলে না। কিন্তু নতুন নিয়ম আরামাইকে লেখা হয়নি; চারটি প্রধান gospel-এর লেখকেরা লিখেছেন গ্রিকেই। এরপর গ্রিক সাম্রাজ্য মিলিয়ে যেতে থাকল, রোম উঠে এল, এবং ক্যাথলিক চার্চ হয়ে উঠল বাইবেলীয় জ্ঞানের প্রধান অভিভাবক। তখনই জেরোমের ল্যাটিন ভালগেট।
সুতরাং সিঁড়িটি এরকম: প্রাচীন হিব্রু, যা আর নেই; গ্রিক সেপ্টুয়াজিন্ট; ল্যাটিন ভালগেট; তারপর ইংরেজি। টিনডেল লিখতে বসছেন এসবের প্রায় সাত-আটশো বছর পর।
আসিফ সিদ্ধান্তটি এক বাক্যে রাখেন: বাইবেল তার মূল ভাষায় নেই — এবং তার চেয়েও বড় কথা, এটি তার মূল ভাষায় অধ্যয়নও করা হয় না। আপনি যে ভাষাতেই পড়ুন, সেটি মূল ভাষা নয়।
একজন শ্রোতা মন্তব্য করেন যে কুরআন অনেক methodical ভাবে এই পর্যায়ে এসেছে। আসিফ দ্বিমত করেন, এবং দ্বিমতটি শিক্ষণীয়। বরং বাইবেলকে নিয়েই অনেক বেশি methodical কাজ করতে হয়েছে — গ্রিক থেকে ল্যাটিনে নিতে প্রচুর scholarly পরিশ্রম লেগেছে। কুরআনের ক্ষেত্রেও systematic কাজ হয়েছে, কিন্তু ভিন্ন ধরনের কাজ, এবং তা হয়েছে অনেক স্বাভাবিকভাবে। কুরআন আরবিতে সংরক্ষিত, সুতরাং কাজ করতে হবে ভাষাটির ওপরেই — তাই আরবির যত literary work ও কবিতা আছে, সেগুলো analyze করে grammatical ও morphological study হয়েছে। বাইবেলের ক্ষেত্রে এটি নেই, কারণ যে ভাষা থেকে আপনি পড়ছেন সেটিই মূল ভাষা নয়।
‘কুরআনিক অ্যারাবিক’
এই প্রেক্ষাপটে আসিফ একটি সমসাময়িক প্রকল্পের সমালোচনা করেন, এবং করেন কঠোরভাবে — the concept of Quranic Arabic। এতগুলো শব্দ শিখে ফেললে কুরআনের এত শতাংশ covered হয়ে যাবে।
যাঁরা এই ধারণা চালু করেছেন, তাঁদের মূল সমস্যা তাঁর মতে একটাই: ভাষা নিয়ে তাঁদের পড়াশোনা নেই। ভাষা কীভাবে কাজ করে, meaning কীভাবে interpreted হয় — তাঁরা ধরে নিয়েছেন এটা naturally জানা যায়।
এবং তিনি একটি নির্দিষ্ট পাল্টা-উদাহরণ দেন। উসূলুল ফিকহে একটি বিশেষ অধ্যায় আছে, حُرُوفُ المَعَانِي। সেখানে দেখানো হয়েছে, কেবল preposition-গুলো নিয়েই কত রকম আলোচনা দরকার, কারণ প্রতিটি কত রকম অর্থ নিতে পারে। وَ, যেটা দিয়ে আমরা ‘and’ বুঝি — সেটি কখনো ‘but’ হতে পারে, একেবারে বিপরীত অর্থ; কখনো ‘so that’। এ তো কেবল preposition; noun আর verb-এর কথা তখনো ওঠেইনি, যাদের নানা অর্থের আক্বীদাগত ও ফিকহী implication আছে। ভাষা একটি linear system নয়।
একই সমালোচনা তিনি আরেকটি বহুল-ব্যবহৃত বাক্যের দিকে ফেরান: ‘আমি কুরআনটা ভালো করে বোঝার জন্য আরবি শিখতে চাই।’ শুনতে ভালো লাগে, কিন্তু আসিফের কাছে এটি shallow — এবং তিনি স্বীকার করেন যে এখন এই কথা শুনলে তিনি কমবেশি বিরক্ত হন। যাঁরা শেষ পর্যন্ত ভাষাটি ভালোভাবে শেখেন, তাঁরা অন্তত এটুকু বুঝতে পারেন যে যে-চিন্তা থেকে তাঁরা শুরু করেছিলেন সেটি ছিল খুব mundane।
এনলাইটেনমেন্ট আসলে কেন এল
এবার মূল প্রশ্ন। পশ্চিমা জ্ঞানের মূল inflection point কোথায়?
আসিফ প্রথমেই একটি প্রচলিত গল্প বাতিল করেন — এবং লক্ষ করেন যে এই গল্পটি আমাদের দেশের ইসলামিস্ট ও সেকুলারিস্ট, দুই পক্ষই বিশ্বাস করে। গল্পটি হলো, পশ্চিমারা হঠাৎ একদিন মনে করল, ‘হায়, আমরা কী করছি! এসব বাদ দাও, চলো আমরা বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে উঠি।’
That is not how it happened।
যা ঘটেছিল তা হলো, স্ক্রিপচার নিয়ে মতভেদ ও সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করল — যার একটি নমুনা টিনডেলের উক্তিতেই আছে। তারপর শুরু হলো interpretation নিয়ে বিতর্ক। শুধু কোন ভাষায় অনুবাদ হবে তা নয়; কীভাবে অনুবাদ হবে। literal, নাকি ভাবগত? আর ইংরেজি বলতেও তখন একটি ভাষা বোঝাত না — আজকের মতো একটি standard ইংরেজির ধারণা তখন ছিল না। আসিফ বাংলার সমান্তরাল টানেন: আজ ‘বাংলায় লেখা বই’ বললে আমরা চাঁটগাঁইয়া বা সিলেটি ভাবি না, কারণ একটি প্রমিত বাংলা আছে — কিন্তু চারশো-পাঁচশো বছর আগে কোন অঞ্চলের ভাষা প্রধান, সেই প্রশ্নের কোনো নিষ্পত্তি ছিল না। প্রত্যেক অঞ্চল নিজের ভাষাকেই প্রধান মনে করত।
এবং এখান থেকেই তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য টানেন, যা সহজে চোখ এড়ায়। স্ক্রিপচারের প্রতি আস্থা কমে যায়নি। মানুষ হঠাৎ নাস্তিক বা অজ্ঞেয়বাদী হয়ে যায়নি। সবাই বাইবেলে বিশ্বাস করত।
যা হারিয়ে গিয়েছিল তা হলো স্ক্রিপচারকে ইন্টারপ্রেট করার ক্ষমতার প্রতি আস্থা। বহু জ্ঞানী মানুষ প্রশ্ন করতে শুরু করলেন, আমরা কি আসলেই ঠিকভাবে অনুবাদ বা ব্যাখ্যা করছি? রোমান ক্যাথলিক চার্চের এই অধিকার কোথা থেকে এল, যখন চার্চ নিজেই সেই ভৌগোলিক ও ভাষিক জগৎ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন যেখানে বইগুলো অবতীর্ণ হয়েছিল? এবং প্রশ্নটি আরও ধারালো হয়ে উঠল এই কারণে যে মূল ভাষাটিই আর নেই।
সেখান থেকে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে দেরি হয়নি: we actually do not know গড কী চাইছেন। সুতরাং জ্ঞানের জন্য আমাদের আরও কিছু trusted source দরকার।
এবং দুটি theme তৈরি হলো। এক, scientific methodology বা empirical study — আমার পাঁচটি ইন্দ্রিয় আর আমার intellectual capacity, এই দুটিকে কাজে লাগিয়ে যা empirically প্রমাণ করতে পারি, তার ওপর আমি trust করতে পারি। দুই, liberal humanism — কোনো authority আর আমাদের ওপর জোরজবরদস্তি করতে পারবে না; প্রত্যেকের individual rights নিশ্চিত করতে হবে।
বিজ্ঞান এবং তার ethos
বিজ্ঞান নিয়ে আসিফ শুরুতেই একটি শর্ত দিয়ে রাখেন। বিজ্ঞানের অবদান এবং timelessness — it is given। কেউ অস্বীকার করে না, করার দরকারও নেই। ধর্মেরও এমন কোনো need নেই যে বিজ্ঞানকে demean করবে। বিজ্ঞান বর্তমান সময়ের জিনিস নয়, এটি সবসময়ই ছিল; মানুষ মাত্রই বিজ্ঞান করবে। ভালো বিরিয়ানি রাঁধতে হলেও কীভাবে ভালো হয় সেটির knowledge লাগে, এবং সেটিও তো scientific knowledge।
তাঁর প্রশ্ন অন্য জায়গায়। বিজ্ঞান ও তার methodology-র কি একটি epistemic শ্রেষ্ঠত্ব আছে — এটিই কি একমাত্র নির্ভরযোগ্য জ্ঞান দিতে পারে, এটা কি given হিসেবে ধরে নিতে হবে?
এবং প্রশ্নটি তিনি সবচেয়ে সরলভাবে রাখেন: আমরা বলছি, কেবল empirically যা বোঝা যায় তার ওপরেই আস্থা রাখা যায়। কিন্তু কোন scientific study প্রমাণ করেছে যে শুধুমাত্র scientific study দিয়েই knowledge অর্জন করা যায়? একটি নির্দিষ্ট scientific proof-এ আস্থা রাখতে চাইলে রাখুন; কিন্তু scientific proof নিজের ওপর আস্থাটা কোথা থেকে আসবে?
এর পাশে তিনি আরেকটি স্তর যোগ করেন, যেটিকে তিনি বলেন socio-cultural hegemony। একটি বিষয়ের academia, তার faculty, ছাত্রছাত্রী, ডিগ্রি, গবেষণা — এই পুরো জিনিসটা purely academic নয়। এটি একটি social structure-ও বটে, এবং সেই structure আমাদের সমাজে এক ধরনের hegemony ভোগ করছে। কোনো subject-ই একটি social structure-এর বাইরে থাকে না।
এই কথাটি বোঝাতে তিনি আইনের জগৎ থেকে একটি উদাহরণ আনেন, যা অধ্যায়টির সবচেয়ে ধারালো মুহূর্তগুলোর একটি।
আইন কী — এই প্রশ্নে দার্শনিকদের বহু লেখা আছে। কিন্তু যাঁরা আইন পেশায় আছেন, তাঁদের লেখা পড়লে দেখা যায় তাঁরা পেশার বাইরের চিন্তকদের আইনসংক্রান্ত ভাবনা কার্যত discard করেন। তাঁদের নিজেদের সংজ্ঞাটি আছে, এবং তার একটি নামও আছে — legal positivism। সংজ্ঞাটি হলো: law is what lawyers do।
আইন মানে কাকে কীভাবে govern করা যায় তা নয়। আইন মানে আইনি পাড়ায় যাঁরা কাজ করেন — অ্যাডভোকেট, বিচারক, ব্যারিস্টার, বারের সবাই — তাঁরা যা করেন, সেটাই আইন। বাইরের কেউ আইন নিয়ে কী ভাবছেন, তাতে কিছু যায়-আসে না। আদালতে আসামি যদি বলেন, ‘আপনারা যেভাবে আইনকে ভাবছেন, আমি সেভাবে ভাবি না’ — nobody cares। হতে পারে তাঁর সত্যিই একটি insight আছে; it doesn't matter to them।
আর আসিফের পয়েন্ট হলো, এই কথাটি আইনে বেশি আলোচিত হলেও প্রায় প্রতিটি enterprise-এর জন্যই সত্য — বিজ্ঞানসহ। সারা পৃথিবীর academic community যা করে, সেটাই বিজ্ঞান। এবং যখনই কেউ এর বাইরে গিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করবেন, মানুষের collective group তৈরি করে কাজ করার স্বভাব থেকেই সেটি rejected হবে। তিনি ভারসাম্যটিও রাখেন — এটি ষড়যন্ত্র নয়; stability ছাড়া কিছু এগোয় না। ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টে ঢোকা ছাত্র তো ভাবছেন না যে এই বিভাগে কী ভুল আছে তা তিনি খুঁজে বের করবেন; তিনি already overawed by the whole system।
আর তাই skepticism নিয়েও তাঁর প্রশ্ন থেকে যায়। সবকিছুতে সন্দেহ দিয়ে শুরু করতে হবে, তারপর সন্দেহ নিরসন করতে করতে জ্ঞানে পৌঁছাতে হবে — এটি কোনো independent, virtuous, given সত্য নয়। শুনতে ভালো লাগে; কিন্তু ভালো লাগে কারণ আমরা ইতিমধ্যেই ওই social structure-এর সুবাসের ভেতরে আছি। বিরিয়ানির গন্ধ নাকে আসছেই, দাওয়াত না পেলেও।
এমনকি গণিতও এই প্রশ্নের বাইরে নয়। গণিত বিজ্ঞানের fulcrum, একটি airtight logical system। কিন্তু philosophy of mathematics পড়লে দেখা যায় এর very assumption নিয়েই সংশয় আছে। সংখ্যা জিনিসটা আসলে কী? প্রশ্নটি হাস্যকর শোনায়, অথচ এটি গভীর দার্শনিক সমস্যা তৈরি করে। বার্ট্রান্ড রাসেলের মতে সংখ্যা একটি class। মানুষের মাথায় থাকা একটি concept ছাড়া সংখ্যার কোনো existence আছে কি না, আমরা জানি না।
যা কাজ করে, বনাম যা সঠিক জ্ঞান
এখানে আসিফ একটি পার্থক্য টানেন যা পুরো অধ্যায়ের কব্জা।
দুটি আলাদা প্রশ্ন আছে। এক, জ্ঞান কী, এবং কোনো কিছুকে আমরা accurate knowledge বলে জানব কীভাবে। দুই, whatever works।
আমরা জানি বিজ্ঞান কাজ করে। গণিত কাজ করে। ল্যাব রিসার্চ করলে ফল আসে। কিন্তু কাজ করা মানেই accurate knowledge তৈরি হওয়া নয়। Something can work but may not be correct. Something can work for now, and not forever.
আর কোনটা ‘কাজ করছে’ — এই বিচারটিও প্রায়ই আমাদের bias থেকে আসে। অনেক সময় একটি জিনিস কাজ করছে বলে মনে হয় শুধু এই কারণে যে অনেক মানুষ এর সঙ্গে একমত। ব্যাংকিং ব্যবস্থা যতদিন মানুষ ভরসা রাখবে ততদিন কাজ করবে; আস্থা উঠে গেলে করবে না।
সুতরাং প্রশ্নটা এই নয় যে বিজ্ঞান ছেড়ে দিতে হবে। প্রশ্নটা হলো, যা কাজ করে সেটিকে কি accurate knowledge-এর representation হিসেবে দেখা যায়? এবং সেই দেখা অনুযায়ী কি সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় যে ধর্ম বা অন্য যেকোনো ব্যবস্থা, যা scientific paradigm-এর বাইরে, সেটিকে reject বা ছোট করে দেখতে হবে? What's the basis of that?
বিজ্ঞানের নিজের ভেতরের ভঙ্গুরতা নিয়েও তিনি কিছু কথা বলেন। ‘রিসার্চে পাওয়া গেছে’ বা ‘scientifically proved’ — কথাগুলো সাধারণ মানুষ শোনেন এমনভাবে যেন জিনিসটা accurately প্রমাণিত হয়ে গেছে। অথচ scientific methodology-র একটি মৌলিক পূর্বশর্ত হলো replicability: একই পরীক্ষা অন্যত্র করলেও একই ফল আসতে হবে। কয়টা গবেষণার ফল আসলে replicate করা হয়? Peer review মানে replication নয়; এর মানে সহকর্মী বিজ্ঞানীরা কাগজটি বিচার করে প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে replication হয় না।
তিনি একটি বইয়ের নাম দেন — Stuart Ritchie-র Science Fictions। অধ্যায়ের পর অধ্যায়ে লেখক দেখিয়েছেন কত রকমের ত্রুটিপূর্ণ গবেষণা হয়ে আসছে — খারাপ প্রতিষ্ঠানে নয়, আইভি লীগে। bias এক ধরনের ত্রুটি, dishonesty আরেক, funding-এর চাপ আরেক। পরিসংখ্যানও manipulate করা যায় — যে .০৫ significance level দেখাতে হয়, সেই খেলাটা অনেকে খেলেন এবং ধরা পড়েন না।
চারজন বিজ্ঞানী, একটি বিতর্ক
কথাটা বিমূর্ত না রাখতে আসিফ একটি নির্দিষ্ট বিতর্কের দিকে নিয়ে যান, যেটি তিনি অনেক বছর আগে দেখেছিলেন। Intelligence Squared নামে একটি প্ল্যাটফর্মে বিতর্কের বিষয় ছিল: There's no such thing as the female brain.
পক্ষে ছিলেন দুজন — Daphna Joel, যাঁর ক্ষেত্র psychology ও neuroscience, এবং Gina Rippon, cognitive neuroimaging। দুজনেই নারী। তাঁদের বক্তব্য: female brain বলে কিছু নেই; সব brain randomly আলাদা, পুরুষ হোক বা নারী। নারীদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো আলাদা ধরনের brain নেই, পুরুষদেরও নেই। এবং এঁদের একজনের এ বিষয়ে বই আছে — কার, আসিফ নিজেই মনে করতে পারেন না, এবং শ্রোতাদের নিজে দেখে নিতে বলেন। বইটি কোনো ideological pamphlet নয়, scientifically written।
বিপক্ষে ছিলেন Kevin Mitchell, genetics ও neuroscience-এর, এবং সেই Stuart Ritchie, যিনি Science Fictions-এর লেখক। দুজনেই পুরুষ। তাঁদের বক্তব্য: পার্থক্য অবশ্যই আছে, এবং বিশেষ করে reproductive কারণে — যেহেতু reproductive organ ও mechanism সম্পূর্ণ আলাদা, সেটিকে cater করতে brain-এর পার্থক্য থাকবেই। এবং তাঁদেরও নিজস্ব scientific explanation ও data ছিল।
আসিফের পয়েন্ট এই নয় যে কারা ঠিক। তাঁর পয়েন্ট হলো — এই চারজনেরই scientific paper আছে, চারজনই ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের acclaimed scientist, এবং চারজনই বিজ্ঞানকে ব্যবহার করেই পরস্পরের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। এটি ideological বিতর্ক নয়, বিজ্ঞান বাদ দিয়ে মতাদর্শের লড়াই নয়। This is a scientific debate and they are opposing।
সুতরাং ‘বিজ্ঞান তো প্রমাণ করে দেয়’ — এই ধারণাটির নিচে কোথাও bias থাকতেই হবে। প্রথমে একটি ideological idea-তে একমত হয়ে তারপর সেটিকে প্রমাণ করার চেষ্টা — এটি বিজ্ঞানে হয় না ভাববেন না।
একটি ইউফেমিজম
দ্বিতীয় theme, liberal humanism, নিয়ে আসিফের প্রথম মন্তব্যটি ভাষাগত: এটি একটি euphemism।
‘লিবারেল’ এবং ‘হিউম্যানিজম’ — দুটি শব্দই শুনলে ভালো লাগে। কনসেপ্টটি আসলে কী তা না জেনেও শব্দ দুটি আগেভাগেই একটি positive ধারণা তৈরি করে দেয়। তুলনাটি তিনি করেন বিজ্ঞানের সঙ্গে: ‘সায়েন্স’ শব্দে কোনো euphemism নেই, কারণ বিজ্ঞানের অন্তত একটি methodology আছে — সেটি ভুল না ঠিক তা আলাদা প্রশ্ন, কিন্তু আছে, এবং সে তার জোরে চলতে পারে। Liberal humanism-এর তেমন কোনো knowledge basis নেই; এটি এনলাইটেনমেন্ট থেকে উঠে আসা একটি collective attitude।
এর সঙ্গে জুড়ে আছে একটি associative fallacy। যেহেতু একই পশ্চিমা intellectual milieu থেকে বিজ্ঞান এসেছে এবং তারাই liberal humanism-এর প্রধান প্রবক্তা, আমরা ধরে নিই যে এই দুটি জিনিস হাত ধরাধরি করে চলে। অথচ প্রায়ই দুটির মধ্যে conflict হয়। এর একটি লক্ষণ আসিফ নির্দেশ করেন: যাঁরা সাংস্কৃতিকভাবে নাস্তিক, তাঁরা প্রায়ই বিজ্ঞানীদের চেয়ে বেশি ‘বিজ্ঞানমনস্ক’ — কারণ তাঁদের ধারণা বিজ্ঞান ধর্মীয় কর্তৃত্বকে খর্ব করছে। বিজ্ঞানীরা এত উচ্ছ্বাস দেখান না, কারণ তাঁরা জানেন একটি finding-এর মধ্যে কী কী loophole থাকতে পারে।
হার্ম প্রিন্সিপল এবং যার ভিত্তি নেই
Liberal humanism-এর কেন্দ্রীয় দাবিটি হলো ব্যক্তিস্বাধীনতা, এবং তার সবচেয়ে পরিচিত সূত্রায়ন জন স্টুয়ার্ট মিলের harm principle: যতক্ষণ আপনি অন্যকে ক্ষতি করছেন না, ততক্ষণ আপনি যা খুশি করতে পারেন।
আসিফ প্রশ্ন করেন — ধর্মকে বাইরে রেখে — এই যুক্তিতে সমস্যা কোথায়? উত্তরটি আলোচনা থেকেই আসে: ক্ষতির সংজ্ঞা একেকজনের কাছে একেক রকম।
এবং সেটিই সমস্যা। কোনটিকে আপনি ক্ষতি হিসেবে দেখবেন? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে আগে জ্ঞান সম্পর্কে একটি অবস্থান লাগে — কোনটা জ্ঞান, এবং কোন জ্ঞান থেকে আমি derive করব কোনটা ক্ষতি আর কোনটা নয়। সেই ভিত্তিটিই তো এখানে নেই।
আসিফ মনে করিয়ে দেন, মিল নিজেই এই সীমানায় এসে আটকে গেছেন। তাঁর treatise খুব বড় নয়, এবং পড়লে দেখা যায় শেষের দিকে তিনি নিজেই এমন সব জায়গায় যাচ্ছেন যেখানে তাঁর নীতিটি আর কাজ করছে না — কারণ কোনটা কতটা ক্ষতিকর, সেটি তিনি জানেন না। তাঁর নিজের দেওয়া উদাহরণ: একজন মানুষ যদি একটানা ধূমপান করেন এবং নিজের জন্য সংজ্ঞা দিয়ে বসেন যে ক্যান্সার হলে হবে, এটা তাঁর ব্যাপার, ধূমপানের আনন্দকে তিনি স্বাস্থ্যঝুঁকির চেয়ে বেশি মূল্যবান মনে করেন — ঠিক আছে, তিনি নিজে তা মনে করতে পারেন। কিন্তু তাঁর এই অভ্যাসের কারণে তাঁর পরিবার ভুগছে। এই ক্ষেত্রে কি তাঁকে থামানো উচিত?
মিল, আসিফের পাঠ অনুযায়ী, এর ভালো উত্তর দিতে পারেননি। এর আগ পর্যন্ত তিনি case-টি সুন্দরভাবে develop করে এসেছেন, কিন্তু এখানে এসে যুক্তিটি hazy হয়ে যায়।
একই কাঠামোগত সমস্যা তিনি দেখান consent ধারণাটির ক্ষেত্রে। সমসাময়িক নৈতিক বিতর্কে consent প্রায়ই চূড়ান্ত ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আসিফের প্রশ্ন সেই ব্যবহারের বিরুদ্ধে নয়; প্রশ্ন হলো ভিত্তিটির ভিত্তি নিয়ে। consent কেন চূড়ান্ত মানদণ্ড, তার basis কী? যে কাঠামো নীতিগতভাবে সমস্ত কর্তৃত্বকে প্রত্যাখ্যান করে এসেছে, সেই কাঠামো নিজের ভিতটি কোথা থেকে পাবে? মুসলিমের অবস্থান থেকে প্রশ্নটি আরেক ধাপ এগোয়: দুজনের consent লাগবে, একমত — কিন্তু আরেকজনের consent লাগবে না কেন, যিনি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা? আসিফের বক্তব্য, এটি কোনো knowledge problem নয়, logical problem নয়। This is just a difference of knowledge paradigm।
এখান থেকেই তিনি সাংস্কৃতিক আপেক্ষিকতাবাদের চরম রূপটির দিকে ইঙ্গিত করেন — ঠিক-ভুল বলে কিছু নেই, কাল যা খারাপ ছিল আজ তা ভালো হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে পার্থক্য হয় বটে; কোন বিরিয়ানি কার ভালো লাগে, তা নিয়ে তর্ক নেই। কিন্তু সবকিছুই আপেক্ষিক এবং সব কিছুকে ওইভাবেই দেখতে হবে — সেখানেই জিনিসটা extreme। হলিউড, বলিউড ও Netflix-এ এখন এই বার্তাগুলো এমন non-realistic মাত্রায় ঠেলে দেওয়া হয় যে প্রায় religious drive-এর মতো দেখায়।
খণ্ডিত জ্ঞান, সমগ্র জ্ঞান
Western skepticism আপনাকে যত জ্ঞানকর্মের ভেতরে নিয়ে আসে, তার সবই compartmentalized — সাহিত্য আলাদা, বিজ্ঞান আলাদা, সমাজবিজ্ঞান আলাদা। এদের একত্র করলে কী ধরনের জ্ঞান পাওয়া যায়, তা প্রায় কখনোই যাচাই করা হয় না। আসিফ যোগ করেন যে এখনকার অনেক চিন্তক নিজেরাই বলতে শুরু করেছেন — this is not working, there has to be some sort of generalism। সাম্প্রতিক একটি চেষ্টার নাম তিনি দেন, Big History: ভিন্ন ভিন্ন discipline একত্র করে একটি acquired wisdom তৈরি করা যায় কি না। কাজটি কঠিন, কারণ যিনি বিজ্ঞানী তিনি সাহিত্য ভালো জানেন না, আর যিনি সাহিত্যিক তিনি বিজ্ঞান।
আর এখানেই তাঁর দাবি: ইসলামী জ্ঞানব্যবস্থায় ঢুকলে দেখা যায়, একজন মুসলিম স্কলার হওয়ার মানে আক্ষরিক অর্থেই encyclopedic একটি understanding থাকা। যিনি ফিকহের ওপর লেকচার দিচ্ছেন, তিনি আক্বীদা ও metaphysics-এর ওপরও দিতে পারেন — এবং he understands poetry। আক্বীদা বা ফিকহের একজন স্কলার আপনাকে আরবি ব্যাকরণ ব্যাখ্যা করতে পারবেন। এটি দু-একজনের উদাহরণ নয়, প্রায় সবার।
একটি প্রেমের কবিতা
এই দাবিটিকে আসিফ একটি মাত্র উদাহরণ দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন, এবং উদাহরণটি সেশনের সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত।
তিনি পর্দায় একটি কবিতা আনেন এবং আবৃত্তি করেন, যাতে শ্রোতারা বুঝতে পারেন পুরো কবিতাটি একটি নির্দিষ্ট মিটারে, একটি ছান্দিক অনুপাতে লেখা।
কবিতাটির অর্থ প্রেমের — আমার ভালোবাসা সত্যিকারের, কিন্তু তোমার ব্যাপারে আশা রাখাই বড় কষ্টের; আমার সবকিছু এসে তোমার কাছে আটকে গেছে, তুমি ছাড়া আর কারও ওপর আমার ভরসা নেই।
তারপর তিনি আসল চমকটি দেখান।
কবিতাটির প্রতিটি চিহ্নিত শব্দ উসূলুল হাদীসের একেকটি পরিভাষা। সহীহ, মু'দ্বাল, মুরসাল, মুসালসাল, দ্বয়ীফ, মাতরূক, হাসান, সিমা', মুশাফাহা, নকল, মাওকূফ, মারফূ', তা'দীল। কুড়ি লাইনের এই কবিতায় হাদিসের প্রধান ধারণাগুলো ধরা আছে।
এবং কবিতার বিষয়বস্তু সম্পূর্ণ অন্য। পরিভাষাগুলোর ভাষিক অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে একটি প্রেমের কবিতা হিসেবে। কিন্তু পুরো কবিতাটি মুখস্থ হয়ে গেলে উসূলুল হাদীসের ধারণাগুলো আর ভোলা যায় না। ব্যাখ্যা এখানে নেই — ব্যাখ্যার জন্য শারাহ পড়তে হবে। কবিতাটি ধারণাগুলোর কাঠামোটি মাথায় গেঁথে দেয়।
ছন্দটিও নিখুঁত। প্রতিটি দ্বিতীয় চরণ শেষ হয়েছে একই হরফে — লাম। মুসালসালু, আজমালু, ফাআনকুলু, আল-মুআওওয়ালু, ওয়াতা'দীলু। And this is how Arabic poetry goes।
কবি কে? শায়খ ইমাম শিহাবুদ্দীন ইবনে ফারাহ আল-ইশবীলী। ‘আল-ইশবীলী’ এসেছে ইশবিলিয়া থেকে — স্পেনের সেভিয়া। একজন স্প্যানিশ মুসলিম স্কলার।
এবং এই কবিতা শেখে বাচ্চারা। ছোটবেলা থেকে তারা একটি প্রেমের কবিতা মুখস্থ করছে; তাদের literary sense তৈরি হচ্ছে, একই সঙ্গে হাদিসের পরিভাষাগুলো তাদের মাথায় বসে যাচ্ছে। যে মুহাদ্দিস হবে না, সেও এটি মুখস্থ করবে — যাতে অন্তত এই বেসিক knowledge থাকে।
আসিফ এখানেই comprehensive শব্দটির অর্থ দেখান। কত রকম জিনিস এখানে একসঙ্গে কাজ করছে — স্কলাররা কবিতার ভালো সমঝদার ছিলেন, নিজেরা ভালো লিখতে পারতেন, এবং সেই literary দক্ষতা দিয়ে একটি সম্পূর্ণ technical বিষয়ের ধারণাগুলো কবিতায় নিয়ে এসেছেন। এবং কবিতাটি নিজেও, ধারণাগুলো বাদ দিলে, an amazing poetry।
এর বিপরীতে আমাদের অবস্থা। আমরা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাড়া-ছাড়া বিষয় পড়ে ডিগ্রি নিয়ে চলে আসি, এবং নিজের বিষয়েরই বহু concept কয়েক বছর পর মনে থাকে না। রাখার দরকারও হয় না। কিন্তু ইসলামী জ্ঞান তো চাকরি নয়।
বর্তমান মুসলিমের নলেজ ক্রাইসিস
সেশনের শেষে আসিফ সংকটটিকে ছয়টি বিন্দুতে সাজান।
এক, ইসলামী নলেজ সিস্টেমের যোগসূত্র থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া। তাঁর মতে এটির ব্যাখ্যার দাবি রাখে না; আগের দুটি সেশনই ব্যাখ্যা।
দুই, পাশ্চাত্য একাডেমিক নলেজের ethos দিয়ে প্রভাবিত হওয়া। শব্দটি তিনি ইচ্ছে করে বেছেছেন। আপনি কেবল তাদের গবেষণার ফল দিয়ে প্রভাবিত নন; you are being affected by the whole attitude and aspirations। পশ্চিমা একাডেমিয়ায় এক ধরনের academic humility আছে, এবং আমরা তাতে খুব প্রভাবিত। আসিফ বলেন, এটি শ্রেষ্ঠত্বের পরিচায়ক নয় — hegemony থেকে আসা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া; কোনো কিছুকে কাজ করাতে হলে এ ধরনের জিনিস naturally গড়ে ওঠে। কিন্তু মুসলিমরা হীনমন্য বলে এতে এমনভাবে affected হয় যেন এই ethos ছাড়া কোনো কিছুকে justify-ই করা যাবে না।
তিন, মডার্নিস্ট এবং কনজারভেটিভের একই উৎস থেকে বিতর্ক। এটি তাঁর সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত পর্যবেক্ষণ। মুসলিমদের একটি প্রান্তে মডার্নিস্টরা — they just want Islam to work in a Western paradigm, এবং সেভাবেই কুরআন-হাদিসের ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে চান। অন্য প্রান্তে অতি-রক্ষণশীলরা। কিন্তু দুই দলের কেউই ইসলামী নলেজ সিস্টেমের যোগসূত্র থেকে আসেননি। তাঁরা একই জায়গা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বিপরীত দিকে চলে যাওয়া দুটি গোষ্ঠী। অতি-রক্ষণশীলদের ভেতরের যুক্তিটি হলো — পশ্চিমা শ্রেষ্ঠত্ব অনস্বীকার্য, সুতরাং ইসলামকে আলাদা রাখতে হলে সেটিকে পুরোপুরি deny করতে হবে। ফলে ‘ইসলাম কী’ প্রশ্নের উত্তর হয়ে দাঁড়ায় পশ্চিমের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে disagree করা। একজন appropriate করছেন, আরেকজন oppose করছেন — কিন্তু দুজনই paradigm-টিকে মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
চার, ইসলাম পালনের মৌলিক ও applied জায়গাগুলোকে reduce করা। ঠিক যেভাবে পশ্চিমা একাডেমিয়া সবকিছুকে compartmentalize করেছে, একই ব্যাপার মুসলিমদের মধ্যে creep in করেছে। একদল শুধু আল্লাহর শাসন নিয়ে ফাঁকা বুলি দিচ্ছেন, আরেকজনের মূল কাজ হাদিস deny করা। প্রত্যেকে ইসলামের কিছু aspect-কে গুরুত্ব দিয়ে বাকিগুলো reduce করছেন। যা শোনা হচ্ছে, তার সবই bite-sized material — কোনো continuity নেই। আপনার secular ambition আর career-এর ধারাবাহিকতার মধ্যে ইসলাম উপর থেকে কিছু প্যাকেট ছাড়ছে: এই নাও রোজার প্যাকেট, এই নাও নামাজের প্যাকেট।
পাঁচ, মুসলিমদের crisis নিয়ে ভুল চিন্তা করা। মুসলিমরা পিছিয়ে আছে — সমাধান কী? পশ্চিমা একাডেমিয়ায় থাকা মুসলিমের মনে হয় আরও বিজ্ঞান-গবেষণা দরকার; ব্যবসায়ীর মনে হয় আরও corporate দরকার। আসিফ বলেন, এগুলো আপনি পৃথিবীটাকে কীভাবে দেখেন তার direct reflection। আল্লাহর রাসূলের সময়ে কি জিনিসটা এভাবে develop করেছিল — কয়েকদিন নামাজ শিখিয়ে তারপর ‘চলো এবার বিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করি’? না। They worked on their Islam। ইসলামের ইতিহাসেও পরে scientific ও economic supremacy এসেছে, কিন্তু এসেছে knowledge-কে ঠিক জায়গায় আনার follow-through হিসেবে।
আর তিনি একটি প্রশ্ন রেখে দেন। মুসলিমরা কত বছর ধরে পশ্চিমে পড়াশোনা করছে? মুসলিম ব্যবসায়ী কম আছে? দুবাইকে আজকের দুনিয়ার সবচেয়ে splendid জায়গাগুলোর একটি ধরা হয় — এতে ইসলামের কী লাভ হয়েছে? যদি এগুলোই সমাধান হয়ে থাকে, সেই systematic development-এর ছবিটা কোথায়?
ছয়, জ্ঞানের ব্যাপারে পেরেনিয়ালি ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া। আধুনিক মুসলিম জানেন না কীভাবে knowledge gain করতে হয়, এবং তাই বারবার ভুল সিদ্ধান্ত নেন।
এখানে আসিফ একটি স্পষ্টীকরণ জুড়ে দেন, যা না থাকলে পুরো আলোচনাটি ভুল বোঝা যেত। তিনি বলছেন না যে সবাইকে আলেম হতে হবে। ঠিক যেমন আপনারা সবাই বিজ্ঞানী নন, অথচ বিজ্ঞানের paradigm বোঝেন, তার শ্রেষ্ঠত্ব বোঝেন — শিক্ষিত মুসলিমকে collectively সেই জায়গায় উঠে আসতে হবে। কেউ স্কলার হবেন, কেউ হবেন না। কিন্তু যিনি হবেন না, তিনিও অন্তত জানবেন ইমাম শিহাবুদ্দীন ইবনে ফারাহ আল-ইশবীলী কী ধরনের কাজ করেছেন। তিনি শুধু আইনস্টাইনের ব্যাপারে বা পশ্চিমা কোনো scholar-এর ব্যাপারে মুগ্ধ হয়ে বসে থাকবেন না।
চার · নিজেদের সুসংহতভাবে গড়ে তোলা
শেষ সেশনে আসিফ ভার কমিয়ে দেন। আগের তিনটি আলোচনার technical density এখানে থাকবে না; প্রশ্ন এখন একটাই — এই জ্ঞানের ব্যাপারে আমাদের attitude ও goal কেমন হওয়া দরকার।
এবং তিনি শুরু করেন এমন একটি বাক্য দিয়ে যা আলোচনার বাকি অংশকে ধরে রাখে: প্রবলেম হচ্ছি আমি নিজে, এবং সলিউশনও আমাকেই হতে হবে।
আমিই সমস্যা
আধুনিক মুসলিমের প্রথম অভাবটি হলো — তিনি অভাবটি টেরই পান না। স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে আসার কারণে আমরা by default ধরে নিই যে জ্ঞানের receptor হিসেবে আমরা একেবারে যথাযথ জায়গায় আছি। আমাদের একমাত্র সমস্যা, সঠিক source খুঁজে পাচ্ছি না।
আসিফ বলেন, তিনি এই ধরনের প্রশ্ন প্রায়ই পান — কেউ আরবি শিখতে চান, একটি নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম বা বইয়ের নাম দিয়ে জানতে চান এটি ভালো হবে কি না। It's a valid question, but it's a secondary question।
প্রথম প্রশ্নটি হলো: আমরা কি আদৌ fit, জ্ঞান অর্জনের জন্য? পড়াশোনা বলে একটা জিনিস যেহেতু আগেই করে এসেছি, সুতরাং আর জ্ঞান অর্জনে সমস্যা হবে না — এই proposal-টা in itself ভ্যালিড কি না, তা নিয়ে আমাদের কোনো introspection নেই।
এই সম্ভাবনাটি আমরা মনের মধ্যে রাখি না যে হয়তো আমিই সমস্যা। হয়তো সঠিক জ্ঞানের সন্ধান পেলেও সেটি গ্রহণ করার মানসিকতা বা যোগ্যতা আমার নেই। এবং যেহেতু আগেই দেখা গেছে যে secular skeptic paradigm আর ইসলামী paradigm আলাদা, এটি না ঘটার কোনো কারণ নেই। আসিফের ভাষায়, this is what is ailing the Muslims।
ভান
এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি সামাজিক অভ্যাস। আমরা একটি আলোচনার টেবিলে বসে বই পড়া নিয়ে ভান করি, বিভিন্ন source থেকে শেখা নিয়ে ভান করি। সমাজ নিজের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করার জন্য প্রচুর incentive দেয়। আর ব্যাপারটি আরও সূক্ষ্ম — সবসময় যে brag করছি তা নয়; অনেক সময় I'm actually faking modesty, যখন সেটাই incentive দিচ্ছে। ভেতরে আমি কতটা true, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় একটি নির্দিষ্ট personality act out করা। এবং তথাকথিত ইসলামী জ্ঞানের প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাওয়ার পর এটি কমে না, অনেক সময় বাড়ে — তৈরি হয় collective fake modesty।
আসিফ এখানে ইবলিসের প্রসঙ্গ আনেন। ইবলিস বহু বছর ইবাদত করেছে। কিন্তু একটি opportune moment-এ বেরিয়ে এসেছে তার ইবাদতের পেছনে আসলে কী ছিল। আমাদের জীবনেও there will come a weak moment যখন নিচের arrogance-টা বেরিয়ে আসবে।
এর বিপরীতে তিনি উলামাদের একটি কথা মনে করিয়ে দেন: তুমি যদি জীবনের পুরোটা জ্ঞানকে দিয়ে দাও, জ্ঞান তোমাকে তার কিছুটা দেবে। কথাটা আমরা সবাই শুনেছি। প্রশ্ন হলো, can we really enact that in our life?
একটি আয়াতের উড়াল
কথাগুলো বিমূর্ত হয়ে যাচ্ছে দেখে আসিফ একটি আয়াতে নামেন — সূরা বাকারার ২৩১।
আয়াতটি ধরতে হলে আগে একটি মানবিক দৃশ্য কল্পনা করতে হয়, এবং আসিফ সেটিই করান। বিয়ের সময় আশপাশের সবাই অভিনন্দন জানায় — অন্তত জানানোর ভান করে। তারপর কোনো কোনো দম্পতির বিচ্ছেদ হয়, আমরা বাইরে থেকে কিছুটা দুঃখ ও জল্পনা দেখাই, এবং দিনশেষে তাঁরা একা পড়ে যান। যে সমস্যাগুলো কেবল তাঁরাই জানেন, সেগুলো নিয়েই থেকে যান। শুরুর trust ততদিনে প্রায় শেষ।
এবং এখানেই কুরআনের বৈশিষ্ট্য, আসিফ বলেন। কুরআন আপনাকে আপনার সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ব্যক্তিগত জায়গা থেকে ধরে conceptually এমন জায়গায় নিয়ে যাবে যে আপনি আর আপনার ছোট ব্যাপারগুলোকে ছোট জায়গায় রাখতে পারবেন না।
আয়াতটি শুরু হয় ঘরের ভেতরে। যখন তোমরা স্ত্রীদের তালাক দাও এবং তাদের waiting period শেষ হয়ে আসে — তখন হয় তাদের ভালোভাবে কাছে রাখো, নয়তো সুন্দর করে বিদায় দাও।
আসিফ এখানে থামেন। ‘সুন্দর করে বিদায় দাও’ — এটি একটি আদেশ। এবং সমাজে আপনি এমন কাউকে পাবেন না যিনি এ কথা বলছেন। খুব কাছের আত্মীয় ছাড়া কেউ বলে না, আর তাঁদের কথায় জোর থাকে না।
তারপর: তাদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে, শত্রুতাবশত ধরে রেখো না। এখানে আল্লাহ এমন একজন স্বামীর কথা বলছেন যিনি vindictive — ভালো আচরণও করবেন না, ছেড়েও দেবেন না। waiting period শেষ হওয়ার ঠিক আগে বলছেন, আমি তোমাকে ফিরিয়ে নিলাম; তারপর আবার একই আচরণ। তিনি নিয়মটিকেই নিজের পক্ষে ব্যবহার করছেন।
এরপর আয়াতটি উড়াল দেয়। আর যে এমনটা করবে, সে নিজের প্রতি অন্যায় করল।
বাইরে থেকে আমরা বলি ছেলেটা খারাপ, মেয়েটা খারাপ। কিন্তু আমাদের সমাজে একজন স্বামীকে সত্য উপদেশ দেওয়ার মানুষটা কই? আল্লাহ বলছেন, তুমি নিজের সঙ্গে অন্যায় করছ। যে স্বামী ভাবছিলেন এটা তো আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার, তাঁকে বলা হচ্ছে, না।
তারপর আরও উপরে: আল্লাহর আয়াতগুলোকে ঠাট্টা হিসেবে নিও না। এটি বিশাল একটি অভিযোগ, প্যারামাউন্ট টু কুফর। একটি দাম্পত্য কলহ থেকে আলোচনাটি এখন সম্পূর্ণ অন্য মাত্রায়।
তারপর: স্মরণ করো আল্লাহর সেই অনুগ্রহ, এবং যে কিতাব ও হিকমাহ তিনি নাযিল করেছেন, যা দিয়ে তিনি তোমাদের উপদেশ দেন। নিজের ক্ষুদ্রতা থেকে বেরিয়ে এসে ভাবো — তুমি ছোট থেকে বড় হয়েছ, মানুষ যা aspire করে তার অনেকটা তুমি করতে পেরেছ। এগুলো সব তিনিই দিয়েছেন। তুমি free-reigning কেউ নও।
এবং শেষে: আল্লাহকে ভয় করো, এবং জেনে রাখো যে আল্লাহ সব কিছু জানেন।
আসিফ আয়াতটিকে উল্টো দিক থেকেও একবার পড়ান, কারণ অবতরণটিও দেখা দরকার। আল্লাহ সব জানেন — তাই তাঁকে ভয় করো। তিনি কিতাব ও সুন্নাহ দিয়েছেন — তাই তাঁর অনুগ্রহ স্মরণ করো। তাঁর আয়াতকে ঠাট্টা কোরো না। যে তা করে সে নিজের প্রতি অন্যায় করে। সুতরাং স্ত্রীকে ক্ষতি করার জন্য আটকে রেখো না। সুতরাং হয় ভালোভাবে রাখো, নয় সুন্দর করে বিদায় দাও।
মহাবিশ্ব থেকে নেমে এসে আবার সেই ঘরের দরজায়।
আর এখান থেকেই তাঁর মূল কথাটি আসে, যেটির জন্যই আয়াতটি আনা: আপনি knowledge gain করতে চান, অথচ কুরআনের সঙ্গে আপনার কোনো সখ্য গড়ে ওঠেনি — এই দুটি কখনো একসঙ্গে চলতে পারে না। Quran has to be an integral part of that system।
পাঁচটি কাজ
Intellectual gymnastics দিয়ে জ্ঞান আসবে না। Intellectual capacity-র জায়গা আছে, কিন্তু সেটিকে তার যথাযথ জায়গায় বসাতে হবে। তার আগে কিছু attitudinal ভিত্তি লাগে, এবং আসিফ পাঁচটি দৈনন্দিন কাজ আলাদা করেন।
কুরআন। আজকের পর থেকে যদি আপনি ঠিক না করেন যে কুরআনকে আপনার জীবনে কোথায় বসাবেন, then you are deciding not to learn। বাইরের মানুষ কী ভাবছে, that comes to nothing; প্রশ্ন হলো কুরআন আপনার হৃদয়ে কতটুকু জায়গা করেছে। ‘আমি কুরআনকে ফেসবুকের চেয়ে বেশি ভালোবাসি’ — এই দাবির মীমাংসা আবেগ দিয়ে হবে না, আপনি কী করেন তা দিয়ে হবে।
এখানে তিনি একটি প্রচলিত ‘সূক্ষ্ম’ কথাকে স্থূল বলে চিহ্নিত করেন: কুরআন মুখস্থ করে লাভ কী, শুধু তিলাওয়াত করে লাভ কী? যাঁরা এ কথা বলেন, তাঁরা কি এরপর জীবনটা কুরআন বোঝার জন্য নিয়োজিত করেন? করেন না। আসিফের অবস্থান স্পষ্ট: শুধু তিলাওয়াত করাটাই একটি বিরাট কাজ — আপনি আল্লাহর কালাম পড়ছেন, কতটুকু বুঝছেন তা গৌণ। এবং এই স্বীকৃতিটাই real modesty, সমাজ আপনাকে বিনয়ী বলছে কি না তা নয়।
যিকির। ফেসবুকে কে কী ঠিক-ভুল লিখছে তা পড়ার চেয়ে ভালো কাজ, এবং বেশি জ্ঞান আনার কাজ, আল্লাহর যিকির করা। বলা সহজ, করা কঠিন — কারণ নিজেদের সঁপে দিইনি বলে জীবনে বারাকাহ কম, ওয়াসওয়াসা বেশি। আর তখন যা ঘটে: যে কাজগুলো সত্যিই ভালো, এমনকি তাৎক্ষণিকভাবেই ভালো, সেগুলোই আমাদের ভালো লাগে না।
দুআ। আপনি জ্ঞান চান — জ্ঞান আপনাকে কে দেবেন? আল্লাহ। তাহলে তাঁর কাছে না চেয়ে শুধু বই পড়ে আর লেকচার শুনে জ্ঞান এসে যাবে? এভাবে তো আমাদের স্কলাররা জ্ঞান অর্জন করেননি।
নামাজ। শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নয়। অনেকে পাঁচ ওয়াক্ত কোনোভাবে পড়েই মনে করেন we have done fine। জ্ঞানী মুসলিম হতে চাইলে প্রচুর নামাজ পড়তে হবে, এবং সেই কষ্টটুকু করার সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আসিফ প্রশ্ন করেন, জীবনের এমন কোন aspect আছে যেখানে সফল হতে এ ধরনের sacrifice লাগে না?
জীবনের যে নামাজগুলো মিস হয়ে গেছে, সেগুলো নিয়েও তিনি কথা বলেন। এখনকার একটি বয়ান শোনা যায় যে সিরিয়াসলি নামাজ শুরু করলে আগেরগুলো মাফ হয়ে যায়। আসিফ বলেন, এটি একটি মারজূহ মত, রাজিহ নয় — উলামাদের মধ্যে প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত নয়। যাঁরা এটি বলেন তাঁদের যুক্তি হলো, যে নামাজ পড়ে না সে ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায়, সুতরাং নামাজ শুরু করা মানে নতুন করে প্রবেশ — আর নবদীক্ষিতের পূর্ববর্তী গুনাহ নিয়ে ভাবতে হয় না।
চার মাযহাব এবং অধিকাংশ আলেম ভিন্ন মত রাখেন। যে নামাজ পড়ে না কিন্তু নামাজের ফরজিয়তকে অস্বীকারও করে না, সে অমুসলিম হয়ে যায় না — এবং নামাজগুলো তার ঘাড়ে থেকে যায়।
মুহাসাবা। উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর উপদেশ:
حَاسِبُوا قَبْلَ أَنْ تُحَاسَبُوا
তোমাদের হিসাব নেওয়ার আগেই তোমরা নিজেদের হিসাব নাও।
দৈনিক হোক বা সাপ্তাহিক, একটি mechanism থাকতে হবে যেখানে আপনি নিয়মিত self-reflective। অন্যের ভুল আমরা readily দেখতে পাই, কারণ অন্যের baggage আমাদের জানা নেই; নিজের ভুলের পেছনে অনেক আবেগীয় baggage থাকে, যা transcend করে ভুল দেখা naturally কঠিন। তাই এটি সিস্টেম্যাটিকভাবে করতে হয় — দিনের একটি সময়, অল্প হলেও, ভাবতে হয় আজ কী কী ভুল করলাম।
আসিফ এখানে সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্নটি রাখেন। সত্যিকার একজন শুভাকাঙ্ক্ষী যদি আপনার ভুল ধরিয়ে দেন, আপনি কি তা গ্রহণ করতে আগ্রহী? উত্তরটা হ্যাঁ বা না দিয়ে নয় — নিজে ভেবে দেখুন এমন কতবার হয়েছে। প্রায়ই দেখা যায়, তখন মানুষের system shutdown করে: হয় সে রেগে যায়, নয়তো ওপরে ওপরে শোনার ভান করে।
পাঁচটি মনোভাব
এর সঙ্গে পাঁচটি attitude তিনি আলাদা করেন।
বিনয়। প্রথমত নিজের সব অর্জনের ব্যাপারে। কে কোথায় পড়াশোনা করেছেন, সমাজে ও পরিবারে কার অবস্থান কোথায় — এই চিন্তাগুলো মনে বড় জায়গা করে থাকলে নিজের মূর্খতা বোঝা অসম্ভব হয়ে পড়বে, এবং তাই জ্ঞান অর্জনও সম্ভব হবে না। গত তিন সেশনে যা আলোচনা হয়েছে তা মানলে এই অবস্থান নিতে সমস্যা হওয়ার কথা নয়: nothing we have done in the past is going to give us knowledge। কিছু জিনিস হয়তো সাহায্য করবে — ভাষার understanding, এই ধরনের দক্ষতা। But those are tools; ওগুলো vanity-র কারণ হতে পারে না।
উচ্চাকাঙ্ক্ষা। প্রথমে মনে হতে পারে বিনয় ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা একসঙ্গে চলে না। আসিফ পার্থক্যটি পরিষ্কার করেন: বিনয়ী হবেন পার্থিব জীবনের ব্যাপারে, আর উচ্চাকাঙ্ক্ষা রাখবেন আল্লাহর জন্য আপনি কী করতে পারেন সেই ব্যাপারে। এই দুটির মধ্যে কোনো সংঘর্ষ নেই। আর আপনি যে অবস্থানেই থাকুন — বড় ফার্মে চাকরি, কিংবা ঘরে সন্তান সামলানো — উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছোট হওয়ার কারণ নেই। আমরা প্রায়ই নিজেদের অলসতাকে পরিস্থিতির অপারগতা হিসেবে ঢাল বানাই, অথচ ফেসবুক করাতে বিন্দুমাত্র ঘাটতি হয় না।
এম্প্যাথি। মুসলিমদের মধ্যে attitudinally এটি সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত। আমরা হার্শ হয়ে পড়ি, হৃদয়ে কাসওয়া দেখা দেয়। শবে বরাত বিদআত কি না, তারাবি কত রাকাত — যাঁরা এ নিয়ে একে অন্যকে টিজ করছেন, প্রচুর আয়াত quote করছেন, তাঁদের লেখায় যা পাবেন না তা হলো এম্প্যাথি। জ্ঞান সঠিকভাবে এলে এই স্থূলতা দেখা যেত না। তবে সীমাটিও তিনি টানেন: এম্প্যাথি মানে জ্ঞানকে twist করা নয়, এবং এটি human rights-এর শব্দভাণ্ডার থেকে তুলে আনা কিছু নয়। এটি স্বাভাবিক মমতা — আল্লাহর রাসূলের যা ছিল।
আত্ম-লাঘব। আমরা নিজেদের যা-ই ভাবি, আগামী ত্রিশ বছরের মধ্যে আমাদের অধিকাংশই absolutely history। নিজেকে আল্লাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার ambition থাকুক, কিন্তু নিজের গুরুত্ব সম্পর্কে একটি false impression নিয়ে শুরু করলে সেটিই আটকে দেবে। কারণ যার কাছে নিজের importance খুব বেশি, সে অন্যের কাছে তার reflection চাইবে — এবং সেই entitlement না পেলেই দমে যাবে।
ধৈর্য। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে bite-sized, quick fix পদ্ধতিগুলো তৈরি হয়েছে মানুষের প্রয়োজনেই; অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু জ্ঞানের গভীরতায় যেতে চাইলে ধীরে ধীরে develop করতে হবে — স্কুল থেকে কলেজ, কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মতোই। আর তার মানে, একটা সময় আসবে যখন you have to do the boring things। আসিফ বিরাট কোহলির একটি সাক্ষাৎকারের কথা মনে করেন, যেখানে কোহলি বলছেন যে তিনি যেভাবে খেলেন তা নিশ্চিত করতে তাঁকে খুবই boring একটি জীবন যাপন করতে হয়। আমরা কোহলির মতো খেলতে চাই, কিন্তু তাঁর boring জীবনটা চাই না।
বছরের পর বছর একই ধরনের material নিয়ে থাকলে বুঝতে হবে দুটি জিনিস: আপনি grow করছেন না, এবং জ্ঞানের ছদ্মবেশে আসলে entertainment-এর জায়গাটা থেকে বেরোতে পারছেন না। তবে তিনি একটি প্রতিশ্রুতিও দেন — জ্ঞানের স্তর পার হতে থাকলে জিনিসটা, তিনি entertaining বলবেন না, it will give you back।
তাখাল্লি, তাহাল্লি, তাজাল্লি
শেষ কাঠামোটি আসিফ ধার করেন তাসাউফের স্কলারদের কাছ থেকে — হৃদয়কে পরিশুদ্ধ করার জ্ঞান যাঁদের বিষয়।
তাখাল্লি মানে খালি করা। হৃদয়ে ইতিমধ্যেই যে রোগগুলো আছে — অনেক রাগ, অনেক হিংসা, অনেক কৃপণতা — সেগুলো প্রথমে চিহ্নিত করা, তারপর দূর করা। অনেক মানুষ চিহ্নিতই করতে পারেন না, কারণ তাঁদের self-importance এত বেশি যে তাঁরা নিজেদের হৃদয় থেকেই বিচ্ছিন্ন। ময়লা বাসায় পারফিউম দিয়ে কাজ হয় না; আগে ময়লা দূর করতে হয়।
কিন্তু আসিফ এখানে একটি দ্বিতীয় অর্থ যোগ করেন, যেটি এই বইয়ের জন্যই বিশেষ। ইসলামী জ্ঞানের technical sense-এও তাখাল্লি দরকার। বর্তমান মুসলিম হিসেবে আমাদের intellectual জায়গায় secular skeptic paradigm ইতিমধ্যেই ঢুকে বসে আছে — বসতেই হবে, কিছু করার নেই। তিনি অস্বীকার করছেন না যে এটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজে লাগবে; চাকরিতে গণিত ও এক্সেল তো লাগবেই। কিন্তু ইসলামী জ্ঞানের paradigm-এ ঢুকতে চাইলে পুরোনো paradigm-এর bias থেকে সরে আসতে হবে। গণিত ভুলে যেতে হবে না — গণিতের বা এ ধরনের সব জ্ঞানের paradigmatic limitation-গুলো চিহ্নিত করে সেগুলোকে হৃদয় থেকে সরাতে হবে।
তাহাল্লি মানে সাজানো। মানুষ যখন অলংকার পরে, সে তাহাল্লি করছে। আগে গোসল, তারপর সুন্দর কাপড়। হৃদয়ের ভুলগুলো দূর করার পর সেখানে সুন্দর গুণগুলো নিয়ে আসা — আর সেগুলো ঠিক ওই পাঁচটি মনোভাব, যেগুলোর কথা একটু আগেই হলো।
তাজাল্লি মানে উদ্ভাসন। যখন এই দুটি হবে, তখন things get clear — তখনই সত্যিকার এনলাইটেনমেন্ট। হৃদয় literally সেই receptor হয়ে ওঠে যার মধ্য দিয়ে true knowledge আসতে পারে।
এবং আসিফ ব্যাখ্যা করেন কেন আয়াত শোনার পর, লেকচার শোনার পর, বই পড়ার পরও জীবন বদলায় না। কারণ I'm so much engrossed with myself। দেহের রোগ আমরা সহজেই চিহ্নিত করতে পারি; মনের রোগ চিহ্নিতই করা হয় না, দূর তো নয়ই।
তিনি সতর্ক করেন, এখানে যেন আরেকটি ভান তৈরি না হয়। আপনার দাড়ি আছে, হিজাব আছে, বাইরে দেখা হলে ইসলামী ভদ্রতা বজায় থাকছে — কিন্তু ভেতরটা ফাঁপা। Looks are deceptive; কাপড়চোপড় আর সামাজিক উপস্থাপনা খুবই সহজ কাজ। হৃদয়কে cleanse করাই the real challenge।
তিনটি কাজ
প্রথম, তুচ্ছতা থেকে বেরিয়ে আসা। আসিফ একটি paradox দেখান: আমরা একই সঙ্গে arrogant এবং insignificant, এবং এই দুটি চিন্তা একে অন্যকে খাওয়ায়। arrogant হতে হচ্ছে কেন? কারণ deep down inside আমরা জানি যে আমরা insignificant — তাই বাইরে একটা ভাব নিয়ে চলতে হবে, যাতে মানুষ দাম দেয়।
তিনি একটি সমান্তরাল টানেন: পরীক্ষার হলে নকল করে পাশ করা যাবে জানলে পড়াশোনা করবেন কেন? পড়াশোনা তখনই করবেন যখন জানবেন খারাপ কাজ কিছুই করা যাবে না। একইভাবে, যখন আপনি সিদ্ধান্ত নেবেন যে তথাকথিত practising মুসলিমের ভাব থেকে বেরিয়ে এসে the real thing চাই — তখন বাইরের মানুষ কীভাবে দেখছে তা immaterial হয়ে যাবে।
এর বিপরীত চরিত্রটিকে তিনি বলেন floater — যে সব জায়গায় ভেসে বেড়ায়, চেহারা দেখাতে যায়, ছবি তুলে রাখে। বড় স্কলার দেশে এলে তাঁর ক্লাসে যাওয়া হচ্ছে; চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালেও যাওয়া হচ্ছে। আসিফ বলেন না যে দর্শক হওয়া যাবে না। তিনি প্রশ্ন করেন — আপনার knowledge project-এ এই লেকচারটির জায়গা কোথায়? নাকি just সবাই যাচ্ছে বলে আমিও যাচ্ছি? যিনি পড়াচ্ছেন তিনি জানেন অনেকেই হুজুগে আসবে, কিন্তু কিছু মানুষ সত্যিই বোঝার চেষ্টা করবে, and I am actually doing it for them। প্রশ্নটি আপনার দিকে: আপনি কোন দলে?
এর সঙ্গে আসে সময়ের দায়িত্ব নেওয়া — সময়ের মূল্য নিয়ে বক্তৃতা নয়, সেটি আমরা সবাই বুঝি। আসিফ নিজের সম্পর্কেই স্বীকার করেন যে তিনি প্রচুর সময় নষ্ট করেন এবং এ ব্যাপারে টিপস দেওয়ার যোগ্য নন। তাঁর কথাটা ভিন্ন: আপনি যা করছেন তা যেন well defined হয়। আজ একটি খেলা দেখলেও, it has to be fitted in a grander plan। আর mixing কমালে জ্ঞান বেশি অর্জন করা যাবে — ইনফ্যাক্ট জ্ঞানের মজা পেয়ে গেলে আপনি নিজেই কমিয়ে দেবেন। That will work like a salt।
দ্বিতীয়, লক্ষ্য ঠিক করা। এখানে একই সঙ্গে ambitious এবং pragmatic থাকতে হবে; বেশি pragmatic হলে কিছুই করা হবে না, বেশি ambitious হলে এমন কাজ শুরু হবে যা এই পরিস্থিতিতে সম্ভব নয়।
দুটি পথ তিনি আলাদা করেন। প্রথমটি — knowledgeable মুসলিম হওয়া। আল্লাহর রাসূল বলেছেন, طَلَبُ الْعِلْمِ فَرِيضَةٌ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ — জ্ঞান অর্জন প্রত্যেক মুসলিমের ওপর ফরজ। এটুকু যেন অন্তত অর্জিত হয়, এবং আগে মেনে নিতে হবে যে এটুকুও হয়নি। দ্বিতীয়টি — তালেবুল ইলম হওয়া, স্কলার হওয়ার উদ্দেশ্যে; আর তার জন্য modern sense-এ ভাষা জানলে চলবে না, আরবির একটি উচ্চতর পর্যায়ে পৌঁছাতে হবে।
তৃতীয়, জ্ঞানের মাধ্যম নিয়ে বাস্তববাদী হওয়া। কোন গ্রুপ, কোন organization, কোন বই — এগুলো পরে। তিনটি মৌলিক জিনিস: শিক্ষক, বই, এবং চিন্তা।
শিক্ষক। এমন কাউকে খুঁজুন যিনি আপনাকে সত্যিকার অর্থে student বানাবেন — যিনি সবসময় কেবল shallow sense-এ exhilarating জিনিস দেবেন না, প্রতিবার চমকে দেওয়ার মতো তথ্য দিয়ে ভরিয়ে রাখবেন না, বরং আপনাকে empower করবেন so that you can think for yourself। একটা সময় আসা উচিত যখন আপনি বলবেন, অনেক ভালো কথা শুনলাম, এখন আমি নিজেও student হতে চাই। এবং সাইকেল না চালিয়ে যেমন সাইকেল চালানো শেখা যায় না, তেমনি আগেভাগে ধরে ফেলা যাবে না কোন শিক্ষক ভালো; পড়াশোনা করতে করতেই বুঝতে হবে।
বই। এখানে আসিফ একটি উসকানিমূলক নির্দেশ দেন: Don't read.
প্রথমে তিনি bookworm-এর ভানটি সরিয়ে দেন। ‘আমি অনেক বই পড়ি, অমুক বই পড়েছি’ — most probably আমরা কেউই খুব একটা বই পড়ি না, অন্তত true knowledge অর্জনের অর্থে নয়। এবং most probably আমরা অনেক খারাপ বই পড়েছি।
তারপর নির্দেশটির ব্যাখ্যা। যেকোনো বইয়ের ব্যাপারে আপনার প্রথম প্রতিক্রিয়া হবে — না, এটা আমি পড়ব না। Is it really necessary? কারণ একটি বই পড়া বিরাট investment। আর তিনি একটি উদাহরণ দেন যা প্রথমে ধাক্কা দেয়: আল্লাহর রাসূল কোনো বই পড়েননি, সাহাবীরাও সারাক্ষণ পড়তেন না — অথচ তাঁরাই আমাদের সবচেয়ে knowledgeable মানুষ।
সুতরাং আগে framework, তারপর বই। নিজের মধ্যে একটি well-defined curriculum দাঁড় করাতে হবে — কোন জ্ঞান লাগবে, কোনটা আগে, কোনটা পরে, কোনটা আসলে গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেই সিদ্ধান্তই তারপর guide করবে কোন বই, কখন, কীভাবে পড়বেন। এই জায়গায় না এলে বই পড়া দিনশেষে futile, বাইরের মানুষ যত পিঠ চাপড়াক।
চিন্তা। বহু মানুষ শিক্ষকের কাছে যান, বই পড়েন, তবু তাঁদের জ্ঞান আগায় না। আসিফ এমন মানুষ দেখেছেন যাঁরা বই নিয়ে প্রচুর কথা বলেন, প্রচুর review দেন — অথচ সেই বইগুলো পড়ে তাঁদের মধ্যে কোনো নতুন thought তৈরি হচ্ছে না। কারণ আমরা একটি pretentious plane-এ বাস করছি, যেখানে নিজে idea generate করার চেয়ে বেশি আগ্রহ মানুষকে বিশ্বাস করানোয় যে আমি আসলে অনেক কিছু। কত সূক্ষ্মভাবে মানুষ লোক দেখানোর চেষ্টা করে, তা কখনো underestimate করবেন না — আমাদের নিজেদের মধ্যেও তা আছে।
তাহলে thinking জিনিসটা কী? আসিফ জর্ডান পিটারসনের একটি কথা উদ্ধৃত করেন, যোগ করে যে কথাটি কেবল তাঁরই নয়: আপনার মাথায় যে চিন্তাটা আসে, that is not thinking। কারও মাথা তো খালি থাকে না। Thinking is the capacity to think about your thinking — মনে যে চিন্তাটি এল, সেটিকে আবার বিচার করা। আমি বললাম, আমার মেসির চেয়ে রোনালদোকে বেশি ভালো লাগে; আপনার মাথায় সঙ্গে সঙ্গে একটি thought আসবে। But have you actually re-judged that thinking?
এটি কঠিন, কারণ by nature আমরা নিজেদের চিন্তার প্রতি পক্ষপাতী। কিন্তু না করলে কয়েক দিন পর এই চারটি সেশনের মূল জিনিসগুলোও ভুলে যাবেন — কারণ চিন্তাকে retain করার কোনো mechanism নেই। আসিফের ব্যবহারিক পরামর্শ: কেউ কেউ অধ্যায় পড়ার পর সারাংশ লেখেন, that's a great way to start। কিন্তু সারাংশ লেখাটাই পয়েন্ট নয়। যে mechanism-ই ব্যবহার করুন, there has to be an independent way that is akin to your personality, যা দিয়ে thinking hat জারি রাখা যায়।
উপসংহার · কী ছেড়েছি
চারটি সেশনের শেষ কথাটি আসিফ রাখেন একটি শর্ত হিসেবে, উপদেশ হিসেবে নয়।
এই জিনিসটা না থাকলে, তিনি বলেন, আপনার ইসলাম কখনো পরের স্তরে যাবে না — আল্লাহর জন্য sacrifice করা। এবং সঙ্গে সঙ্গে সেই সতর্কতাটি, যা তিনি বারবার ফিরিয়ে এনেছেন: একে abstract জায়গায় রেখে দেবেন না।
কারণ abstract জায়গায় রাখলে যা হয় তা তিনি আগেই বর্ণনা করেছেন। আজ শুনতে ভালো লাগল, হয়তো চোখে পানিও এল; কালকে-পরশু আবার যেই কে সেই। এক মাস বা এক বছর পর আফসোস — কুরআনটা পড়া উচিত ছিল, এগুলো করা উচিত ছিল, হচ্ছে না।
সেই আফসোসটিকেও আসিফ ছাড় দেন না। এই ধরনের বিষণ্ণতা কোনো ভালো জিনিস নয়; বরং তিনি বলেন, এটি অনেকটা আল্লাহর সঙ্গে বেয়াদবির মতো। আল্লাহ আপনাকে সব potential দিয়ে পাঠিয়েছেন, গাইডও করেছেন, কিতাব পাঠিয়েছেন, রাসূলকে তাঁর সুন্নাহসহ পাঠিয়েছেন — এসব মেনে নেওয়ার পর বছরের পর বছর কেবল আফসোস করে যাওয়ার মধ্যে হয়তো এক ধরনের নাফরমানিই যুক্ত হচ্ছে।
সুতরাং প্রশ্নটি সহজ, এবং সহজ বলেই এড়ানো কঠিন। নিয়মিত নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: আমি আল্লাহর জন্য কী sacrifice করলাম?
যদি একটি concrete উত্তর পান, you are really doing it। যদি না পান, তাহলে it's not happening yet।
আপনি যদি sacrifice করার মানসিকতাই না রাখেন — যদি ভাবেন দুনিয়াতে যেসব ambition নিয়ে চলেছেন বা মানুষ আপনাকে চলতে শিখিয়েছে, সেগুলো সব ধরে রেখে একই সঙ্গে knowledge-ও অর্জন করবেন — তাহলে, আসিফের ভাষায়, this is not going to happen।
আর তার পাশে তিনি রেখে যান একটি আশাও, যা এই পুরো আলোচনার ভারসাম্য। এই কাজগুলোকে কঠিন মনে না করে যদি একে একটি inflection point হিসেবে গোনা যায় — যদি আজ এই জায়গা থেকে কেউ সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি নিজেকে সঠিকভাবে গড়ে তুলবেন — তাহলে হয়তো তাঁকে দিয়েই আল্লাহ বড় কাজ করাবেন। আর সেই বড় কাজগুলোর মধ্যে প্রধান কাজ ইবাদত। বাইরের মানুষ আপনাকে ভালো মুসলিম মনে করছে কি না, স্কলার মনে করছে কি না — সেটি নয়।
তিনি নিজের সম্পর্কেও শেষ পর্যন্ত একই পরিমিতি রাখেন। এই চারটি সেশনে অনেক intellectual, অনেক dense কথা হয়েছে, এবং তিনি চান না শ্রোতারা এই ভুলটি করুন — as if this is how truth is understood। না। Truth জানার intellectual clarity আল্লাহই এনে দেবেন। কী পড়তে হবে, কীভাবে জানতে হবে, কীভাবে argument build করতে হবে — এগুলো আল্লাহর তৌফিকেরই reflection। যা তৌফিকের reflection, সেটিকে তৌফিক ছাড়া নিজে থেকে অর্জন করার চেষ্টা যেন আমরা না করি।
এই বইটি চারটি কথ্য সেশনের একটি সংকোচন। আসিফ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলে এসেছেন যে আলোচনাগুলো সম্পূর্ণ নয় — প্রতিটি স্লাইড নিয়ে আলাদা দীর্ঘ লেকচার হতে পারত, এবং প্রতিটি বিষয়ের জন্য সামনে সময় পড়ে আছে। সেই দাবিটুকু এখানেও বহাল। যেসব ফিকহী প্রশ্ন এখানে উঠেছে — قُرْء-এর অর্থ, ওলির অনুমতির প্রশ্ন, তারাবির রাকাত — তার কোনোটিরই মীমাংসা এই বই করেনি, কারণ আসিফ নিজেও করেননি। প্রশ্নগুলো এখানে আছে দেখানোর জন্য যে একটি উত্তরে পৌঁছাতে কী লাগে, উত্তরটি জানানোর জন্য নয়।
দুই ইমামের ইখতিলাফ আয়াত নিয়ে নয়। তাঁরা মতভেদ করছেন আরবি ভাষার নিয়ম কী, তা নিয়ে — এবং সেই মতভেদের জায়গাটি এতটা elastic নয় যে যে-কেউ সেখানে ঢুকতে পারবেন।তালাক দিতে হয় তুহর অবস্থায়, তাই প্রথম তুহরটি কখনোই পূর্ণ এক নয়। আবু হানিফার উসূলে ثَلَاثَة একটি খাস শব্দ — self-explanatory, যাতে যোগ-বিয়োগ চলে না। তুহর অর্থ নিলে সংখ্যাটি রক্ষা করা যায় না।কালো টাওয়ার আরবি জ্ঞান — শুধু কুরআনের বাহন নয়, নিজেই একটি knowledge। নীল টাওয়ার applied জ্ঞান। মাঝের সরু লাল পথটি কুরআন ও সুন্নাহ — ছোট, কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আধুনিক পাঠক বাঁ দিকের টাওয়ারটি এড়িয়ে সরাসরি সেতুতে উঠতে চান, এবং তাকে বলেন ‘কুরআন বোঝার জন্য আরবি শেখা’।logic মানে correct premise থেকে correct derivation-এর মাধ্যমে সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো। premise ভুল হলে সেটি এক ধরনের fallacy, derivation ভুল হলে আরেক ধরনের।আল্লাহ চাইলে أَهْلُ العِلْم বলতে পারতেন। তিনি বলেছেন যিকর — এমন একটি শব্দ যা কেবল জিনিসটির ব্যাপ্তি নয়, তার উদ্দেশ্যও বলে দেয়।ইমাম আবু হানিফার মাযহাবের প্রকৃত founder ইমাম আবু হানিফা নন। তাঁর কাজ ছিল এই ধারার formative উসূল তৈরি করা — ছাত্রদের সহযোগিতায়।পার্থক্যের কারণটি সরল: বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কোনো ওহী নেই, ফিরে যাচাই করার কোনো standard নেই। প্যারাডাইমটি মানুষেরই তৈরি, তাই মানুষ সেটি ছেড়ে দিতে পারে।বাইবেলের সিঁড়ি নামতে থাকে — প্রতিটি ধাপে মূল ভাষা আরও দূরে সরে। কুরআনের স্তম্ভটি একই জায়গায় থাকে, আর তার নিচে ভিত্তিটি চওড়া হতে থাকে। এটিই পার্থক্য: একদিকে অনুবাদের ধারাবাহিকতা, অন্যদিকে ভাষার সংরক্ষণ।
আমার ভালোবাসা সত্যিকারের, কিন্তু তোমার ব্যাপারে আশা রাখাই বড় কষ্টের। আমার দুঃখ আর কান্না থামে না। তোমাকে না পাওয়ার ধৈর্য দুর্বল — বরং তোমার প্রতি আমার নাছোড় লেগে থাকাটাই সুন্দরতর।
চিহ্নিত প্রতিটি শব্দ উসূলুল হাদীসের একেকটি পরিভাষা। কুড়ি লাইনের কবিতায় হাদিসের প্রধান ধারণাগুলো ধরা — অথচ কবিতার বিষয় সম্পূর্ণ অন্য।
শায়খ ইমাম শিহাবুদ্দীন ইবনে ফারাহ আল-ইশবীলী — ইশবিলিয়া, অর্থাৎ স্পেনের সেভিয়া। এই কবিতা বাচ্চারা মুখস্থ করে। তাদের সাহিত্যবোধ তৈরি হয়, একই সঙ্গে হাদিসের পরিভাষাগুলো মাথায় বসে যায়। প্রতিটি দ্বিতীয় চরণ শেষ হয় একই হরফে — লাম — এবং পুরোটা একটি কঠোর মিটারে বাঁধা। এই দুটিই একে ধরে রাখে।তাসাউফের স্কলারদের কাছ থেকে ধার করা কাঠামো, যা আসিফ ইসলামী জ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন। তাখাল্লি কেবল হৃদয়ের রোগ দূর করা নয় — secular skeptic paradigm-এর bias সরানোও এর অংশ।